State Times Bangladesh

গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ত্রিপুরায় তিন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৮, ২১ জুন ২০২১

আপডেট: ২১:১২, ২১ জুন ২০২১

গরু নিয়ে যাওয়ার সময় ত্রিপুরায় তিন মুসলিমকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতের ত্রিপুরায় গাড়িতে করে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় তিনজন মুসলিম যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি।

এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে গরু বা গরুর মাংস বহন করার অভিযোগে মুসলিমদের পিটিয়ে মারা হলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটিতে এই ধরনের ঘটনা সম্ভবত এটাই প্রথম।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে খোয়াই জেলায়, যা বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি। নিহত যুবকদের গরুচোর বলে সন্দেহ করেছিল গ্রামবাসী।

গণপিটুনিতে নিহত তিনজন ব্যক্তিকে জায়েদ হোসেইন (৩০), সাইফুল ইসলাম (১৮) ও বিল্লাল মিঁয়া (২৮) বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় তেলিয়ামুড়া থানার এক ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার ভোররাতে একটি ভ্যানে করে গোটাপাঁচেক গরু-মোষ নিয়ে যাওয়ার সময় এই তিনজন ব্যক্তি গ্রামবাসীদের নজরে পড়ে যায়।

তারা গরুমোষ চুরি করে পালাচ্ছে এই সন্দেহে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাদের গাড়িটিকে ধাওয়া করে এবং উত্তর মহারানিপুর নামে একটি গ্রামের কাছে ভ্যানটিকে ধরেও ফেলে।

গরুচোর সন্দেহে গাড়ির আরোহীদের মধ্যে দুজনকে সেখানেই নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। একজন সেখান থেকে পালাতে সক্ষম হলেও সে-ও প্রাণে বাঁচতে পারেনি, একটু দূরে মুঙ্গিয়াকামি নামে আর একটি গ্রামের কাছে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকেও ধরে ফেলে পিটিয়ে হত্যা করে।

পরে ওই তিনজন যুবকের দেহ আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবি পন্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকান্ডে দুটি আলাদা গণপিটুনির মামলা নথিভুক্ত করা হলেও সোমবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে নিহত জায়েদ হোসেইনের মা দাবি করেছেন, তার ছেলে কোনও গরু পাচার বা অপরাধের সঙ্গে কখনওই যুক্ত ছিল না।

ত্রিপুরায় বিজেপির মুখপাত্র সুব্রত চক্রবর্তী বলেছেন, "কোনও সন্দেহ নেই ঘটনাটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। মানুষের কখনওই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়।

বিজেপি কখনওই এ ধরনের আচরণকে সমর্থন করবে না এবং সরকার এই হত্যার যথাযথ তদন্ত করবে বলেও তিনি কথা দিয়েছেন।

সম্পর্কিত বিষয়: