State Times Bangladesh

শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রাখার নিয়ম ও ফজিলত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:০৭, ১৫ মে ২০২১

শাওয়াল মাসের ৬ রোজা রাখার নিয়ম ও ফজিলত

প্রতীকী ছবি

রমজানের এক মাস সিয়াম-সাধনার পর শাওয়াল মাসের প্রথম দিনটি আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দের দিন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

যে দিনে আমরা ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করে থাকি এ দিনে রোজা রাখা হারাম। ঈদ পরবর্তী সময়ে শাওয়ালের ছয় রোজা পালনে রয়েছে অনেক ফজিলত।

এক মাস সিয়াম সাধনা দীর্ঘ অধ্যাবসায়-অনুশীলনে অনেকটা নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এভাবে মাহে রমজানের সৌভাগ্যে মানুষের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে এই পরিবর্তন যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ব্যক্তিজীবনে কল্যাণ বয়ে আসে।

এই চমৎকার পরিবর্তনটা জীবনে বাস্তবায়নে সুন্দর ব্যবস্থা রয়েছে এছাড়াও এক মাসের রোজা শেষে যেন বান্দা যেন রোজার কথা ভুলে না যায়, সে উপলক্ষও প্রস্তুত রাখা হয়েছে আর তা হলো- প্রতি চন্দ্রমাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখের রোজা, আশুরার রোজা, ৯ জিলহজ আরাফার দিনের রোজাসহ অন্যান্য নফল রোজার বিধান।

ইসলাম ফরজ নামাজের ত্রুটি-বিচ্যুতি পোষাতে নফল নামাজ রেখেছে, তেমনি ফরজ রোজার ঘাটতি পূরণেও সদকাতুল ফিতর ও শাওয়ালের রোজা সুন্নত করেছে। এই নফলগুলো ফরজের ত্রুটিগুলোর ক্ষতিপূরণের জন্য।

রোজাদার যদি মিথ্যা, অনর্থক বাক্যালাপ, অসদাচরণ ও মন্দ দৃষ্টিভঙ্গি প্রভৃতি কাজ থেকে সম্পূর্ণ বাঁচতে না পারে, তাহলে তার রোজার পুণ্য কমে যায়। আর কমতি পুণ্যকে পূর্ণ করতেই শাওয়ালের ছয়টি রোজা।

শাওয়ালের ছয়টি রোজার মাধ্যমে রমজানের রোজার শুকরিয়া আদায় করা হয়। যখন কোনো বান্দার আমল আল্লাহ তাআলা কবুল করেন, তখন তাকে অন্য নেক আমলের তাওফিক দেন। সুতরাং এ রোজাগুলো রাখতে পারা রমজানের রোজা কবুল হওয়ারও লক্ষণ।

রাসুল (সা.) নিজে এ রোজা রাখতেন এবং সাহাবায়ে কেরামদের রোজা রাখার নির্দেশ দিতেন। আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।’ (মুসলিম, হাদিস : ২/৮২২)

রমজানের ৩০টি রোজার সঙ্গে শাওয়ালের ছয়টি রোজা যুক্ত হলে মোট রোজার সংখ্যা হয় ৩৬টি। আর প্রতিটি পুণ্যের জন্য ১০ গুণ পুরস্কারের কথা উল্লেখ রয়েছে কোরআনুল কারিমে। তাহলে ৩৬টি রোজার ১০ গুণ হলে ৩৬০টি রোজার সমান (এটি পুরস্কারের দিক থেকে)। অর্থাৎ সারা বছর রোজার সমান সাওয়াব হবে।

সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান। সুতরাং এ হলো এক বছরের রোজা।’ (নাসায়ি, হাদিস : ২/১৬২)

সুরা আনআমের ১৬০ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, যে ব্যক্তি একটি সৎ কাজ করল, সে ১০ গুণ সওয়াব পাবে। এ হিসাবে যে ব্যক্তি রমজানের এক মাস রোজা রাখল, সে ১০ মাস রোজা রাখার সওয়াব পাবে। আর ছয়টি রোজার ১০ গুণ ৬০ দিন। অর্থাৎ দুই মাস। আর এ দুই মাস মিলে ১২ মাস রোজার সাওয়াব।

উবাইদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারব?’ তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে।

কাজেই তুমি সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং রমজান-পরবর্তী শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখো, তাতেই সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি : ১/১৫৭)

শাওয়ালের ছয়টি রোজার ব্যাপারে কিছু ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত। অনেকের ধারণা, এ রোজা শুধু মহিলারা রাখবে। প্রকৃতপক্ষে তা নয়; বরং এ রোজা পুরুষ-মহিলা সবার জন্যই সুন্নত।

মাসের শুরু-শেষ কিংবা মাঝামাঝি- সব সময়ই রাখা যায় এ রোজাগুলো। একনাগাড়ে অথবা মাঝে ফাঁক রেখে পৃথকভাবেও রাখা যায়। শাওয়াল মাসে শুরু করে শাওয়াল মাসে শেষ করলেই হলো। তবে ঈদুল ফিতরের পর শাওয়ালের প্রথম দিকে একসঙ্গে ছয়টি রোজা রাখাই উত্তম।

প্রসঙ্গত, অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে- যেকোনো কারণে রমজানের রোজা ভেঙে ফেললে শাওয়াল মাসে কাজা রোজা আগে রাখবে, নাকি ছয় রোজা আগে রাখবে।

আবার এই রোজা রাখলেই কি কাজা রোজা আদায় হয়ে যাবে, নাকি আলাদা আলাদা রাখতে হবে। এর জবাব হলো, কাজা রোজা আদায় করা যেহেতু ফরজ, তাই আগে কাজা রোজা আদায় করতে হবে।

আর ফরজের কাজার সঙ্গে যেহেতু নফলের নিয়ত করা যায় না, তাই কাজা রোজা ও ছয় রোজা আলাদা আলাদা-ই রাখতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ৫/৪৭৬)

সম্পর্কিত বিষয়: