State Times Bangladesh

ক্ষতিটা হয়েছে শিক্ষার্থীদেরই

প্রকাশিত: ১২:৪৪, ৭ জুন ২০২১

ক্ষতিটা হয়েছে শিক্ষার্থীদেরই

প্রতীকী ছবি

শিক্ষার্থীদের অব্যাহত আন্দোলনের মুখে করোনার এই মহামারির মধ্যে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় খুলে পরীক্ষা গ্রহণ করতে যাচ্ছে। হোক সেটা ঝুঁকিপূর্ণ, তবুও এটি একটি স্বস্তিকর সংবাদ বটে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় যখন খুলছে, তখন করোনার যে সংক্রমণের চিত্র তা গত বছর এর চেয়ে নিম্নমুখী ছিল। নাচতে যদি হবে, তাহলে ঘোমটা টেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এতদিন বসে ছিল কেন? গত বছরের চেয়ে এখনকার পরিস্থিতি কী খুব উন্নতি হয়েছে?

বিষয়টা অনেকটা স্পষ্ট, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নীতি নির্ধারক পর্যায়ে যারা ছিলেন/আছেন তাদের অপরিকল্পিত এবং অপরিপক্ক সিদ্ধান্তহীনতায় দেশের হাজার হাজার ছেলে মেয়ে শিক্ষাজীবনে বড় ধাক্কা খেল।

অনেক শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষা আটকে ছিল, যার কারণে তারা কর্মজীবনে যেমন প্রবেশ করতে পারছিলেন না, তেমনি দেশের বাহিরে উচ্চশিক্ষায় আবেদন করতে পারছিল না। ক্লাস না করালেও করোনার সংক্রমণ যখন কম ছিল, তখন এদের পরীক্ষা নেওয়া যেত। কিন্তু না, আমাদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করেছিল, করোনা প্রবল বেগে শিক্ষালয় তছনছ করে দিতো। নিজেরা ভিড় ঠেলে অফিস করলেও ছেলেমেয়েদের একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে রেখে করোনা মোকাবিলা করছিল, যা সত্যি অপরিনামদর্শীতার ফল।

এখন আটকে আছে টিকার জন্য। যেখানে সিংহভাগ টিকা ১৮ বছরের অধিক বয়সীদের জন্য, সেখানে ছোট ছোট বাচ্চারা কি করে টিকা নেবে?

আমার মনে হয় না, শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত দেড় বছরে জুতসই গাইডলাইন তৈরি করতে পেরেছে। কোভিডের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সচলের জন্য ভালমত স্টাডি করেছে। আর সেটা করতে পারেনি বিধায়, করোনার মধ্যে দেশের সব অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও গত দেড় বছরে শিক্ষার চাকা স্থগিত ছিল। অথচ এইসব ছেলে-মেয়ে কখনোই ঘরে ছিল না, বরং তারা চষে বেড়াচ্ছে সর্বত্র।

আমরা বারবার বলেছিলাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যাক্রমিক খোলা উচিত। আগে বিশ্ববিদ্যালয়, তারপর কলেজ আর সব শেষ বিদ্যালয়।

বিশ্বের প্রায় সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। গবেষণাগার চলছে। ক্লাসের কৌশলগত পরিবর্তন হয়েছে। অনলাইন-অফলাইনে পড়াশুনার ক্রম শেয়ার হচ্ছে। অথচ আমরা গেলাম পিছিয়ে।

কেবল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরও হাজার হাজার শিক্ষার্থীর চূড়ান্ত পরীক্ষা কাঁধে নিয়ে দুর্বিষহ সময় পার করছে। তাদের দিকেও নজর দেওয়া উচিত।

বাচ্চারা কখনোই ভ্যাকসিন পাচ্ছে না, এটা মাথায় রেখে একটি শক্তিশালী গাইডলাইন তৈরি করা উচিত। ঘাটতি পূরণ করতে সিলেবাসে কিছুটা সংস্কার করা যেতে পারে। সংস্কার করা চ্যাপ্টারগুলো পরবর্তী বর্ষে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আমরা যেহেতু জানি না, কোভিড-১৯ কবে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে, সেহেতু কোভিড-১৯ মাথায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সিলেবাস করতে হবে।

আমরা যদি ডাবল শিফট চালু করতে পারতাম, তাহলে হয়তো এই লম্বা বিরতির ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব। যদিও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাবল-শিফটের সুযোগ সুবিধা নেয়। শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ সংকটে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ব্যতীত অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাবল শিফট চালু করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে। তবে নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে ডাবল শিফটের কোন বিকল্প নেই। শিক্ষকদের পরিশ্রম হবে, তবে দেশের শিক্ষার এই খাঁদ থেকে উত্তরণের জন্য তাদের শক্তিশালী ভূমিকা প্রয়োজন।

আপাতত ক্ষতিটা শিক্ষার্থীদের হলো। শিক্ষা মন্ত্রণালয় আর একটু স্মার্ট হোক। মাসের পর মাস সিদ্ধান্তহীনতায় না থেকে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত তৈরি করা সময়ের দাবি ছিল মাত্র।

ড. নাদিম মাহমুদ : গবেষক, ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাপান