State Times Bangladesh

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

মুশতাকের মৃত্যুতে বিচার কেন চাইবেন?

প্রকাশিত: ১১:৫৯, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৪:৪৪, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মুশতাকের মৃত্যুতে বিচার কেন চাইবেন?

একটা স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ হয় রাষ্ট্রের মালিক। যে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ, তার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলার ইচ্ছা শক্তি থাকতে পারে না। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্ব চায় না ইত্যাদি কথা যদি কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ বা অন্যরা বলতেন, তখন বলা যেত যে এটা রাষ্ট্রবিরোধী কথা।

আমাদের দেশে সরকারবিরোধী কথাকে রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের সমালোচনা করা জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার। পৃথিবীর সকল গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার আছে। সরকার একটা ব্যবস্থাপক মাত্র।

তাই সরকারবিরোধী কথা আর রাষ্ট্রবিরোধী কথা এক নয়। সরকারের সমালোচনা করা জনগণের অধিকার বলেই আমরা এরশাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের ভালো-মন্দ নিয়ে কথা বলাও আমাদের অধিকার। এই অধিকার আমাদের সংবিধান দিয়েছে। যদি এতে তাদের সমস্যা হয়, তাহলে তারা বলুক ‘আমরা সংবিধান স্থগিত করলাম’।

আক্ষরিক অর্থে মুশতাকের মৃত্যুর দায়ভার রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের, পুলিশ ও র‌্যাবের। যারা কিশোর, মুশতাকসহ অন্যদের হয়রানি, মামলা দেওয়া, গ্রেপ্তার করা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেকের বিচার হওয়া উচিত।

এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। যারা যারা জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার। যেটা আমরা শুনলাম, কিশোরের কান ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন অজস্র মানুষ কারাগারে বন্দী আছেন। তাদের অনেকে বিনা বিচারে ও বিনা চিকিৎসায় কারাগারে রয়েছেন।

সকল ঘটনায় একটি কমিশন তৈরি করে দায়ীদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা উচিত। মুশতাকসহ আরও যাদের এভাবে মৃত্যু হয়েছে, এসব হত্যার বিচার করা ছাড়া বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।

এসব চলমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ রুখে যদি না দাঁড়ায়, মানুষ ঘুরে যদি না দাঁড়ায়, মুশতাকরা অকাতরে মারা যাবে। বিনা বিচারে করতে পারা প্রতিটা হত্যাকাণ্ড খুনীকে আরও উৎসাহিত করবে, সাহস যোগাবে। জেগে ওঠা মানুষই বেপরোয়া গুণ্ডাতন্ত্রের মুখে লাগাম পড়াবার একমাত্র নিশ্চয়তা হতে পারে। আর কোনো কিছুকে তারা পরোয়া করে না।

বিচার চাওয়া তাই জনগণেরই দাবি, জনগণেরই কাছে। সরকার দুই দিনের বস্তু, হতে পারে ক্ষমতা আকড়ে আছে বছরের পর বছর। সরকার রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপক, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। মুশতাক হত্যার বিচার চাওয়া আসলে জনগণের কাছেই চাওয়া। কেন না, জনগণ বড় বিচারক।

গণতন্ত্র মানে জনগণের বিচারের একটা সুশৃঙ্খল প্রাতিষ্ঠানিক বন্দোবস্ত। কিন্তু এমনকি সেই সব গণতান্ত্রিক তেমন রাষ্ট্রেও যদি রাষ্ট্রের ব্যবস্থাপকরা বেপরোয়া হয়ে ওঠে, বিচার-ব্যবস্থা মোসাহেব হয়ে ওঠে, মানুষকেই সেখানে দায়িত্ব নিতে হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর রাস্তায় নেমে বিচারের দাবি করাই সেখানে বিচার এনেছে। বিচার চাইবার পথ ধরেই জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার আর রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম হবে, ভোটের অধিকার, কথা বলবার অধিকার কায়েম করা যাবে।

মুশতাক হত্যার বিচার চাই। জনগণের কাছেই চাই। আজ কিংবা কাল, মুশতাকসহ অজস্র হত্যার বিচার করেই, সেগুলোর হুকুমের আসামিদের বিচারের আওতায় এনেই দেশে গণতন্ত্র কায়েম করতে হবে।

ফিরোজ আহমেদ : প্রাবন্ধিক ও রাজনীতিক