State Times Bangladesh

করোনামুক্ত হওয়ার পর হজমে সমস্যা হলে করণীয়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ৩১ মে ২০২১

করোনামুক্ত হওয়ার পর হজমে সমস্যা হলে করণীয়

প্রতীকী ছবি

করোনাভাইরাসের নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়ার পরও এর প্রভাব থাকে অনেক দিন। অনেকেরই করোনার সময় ডায়েরিয়া বা পেটের সমস্যা দেখা দেয়। সেটা করোনা থেকে মুক্ত হওয়ার পরও পুরোপুরি সারছে না। কোভিডের দীর্ঘকালীন প্রভাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হজমশক্তি কমে যাওয়া।

তাই শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ করে তুলতে প্রোটিনে ভরপুর খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু প্রোটিন হজম করতে অনেক বেশি সময় লাগে। পেট খারাপ হলে তো আরও মুশকিল। সে ক্ষেত্রে কী করা যায়। কী রকম খাবার খেলে পুষ্টির অভাবও হবে না, আবার তাড়াতাড়ি হজমও করতে পারবেন?

ভারতীয় পুষ্টিবিদ রেশমী রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের স্বাভাবিক জীবনে যতটা প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস, তার চেয়ে যদি হঠাৎ বেশি পরিমাণে প্রোটিন দেওয়া শুরু হয়, তা হলে যে কোনো মানুষের পেটের গণ্ডগোল হতে বাধ্য। তার ওপর তীব্র গরম। এই গরমে মাছ-মাংস ঠিক পদ্ধতি রান্না না করলে এবং তা ঠিকভাবে না রাখলে, খুব তাড়াতাড়ি সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে পেটের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

এই চিকিৎসক বলেন, বয়স অনুযায়ী খাবার খেতে হবে। একজন কমবয়সি ছেলে বা মেয়ে যতটা প্রোটিন হজম করতে পারবে, একজন ৬০এর উপর মানুষ তা পারবেন না। তাই বয়স বুঝে প্রোটিন দিতে হবে। এই সময় মানুষ খুব ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তাই অনেক চিকিৎসকই কোনও বাড়তি প্রোটিন ড্রিঙ্ক খাওয়ার উপদেশ দেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, পেটের গোলমাল হলে এই প্রোটিন ড্রিঙ্কও হজম করতে অসুবিধা হবে।

তাহলে উপায় কী? হজমের সমস্যা কমাতে কী ধরনের খাবার খাওয়া উচিত? রেশমী জানাচ্ছেন, কোভিড সেরে যাওয়ার পর যাদের পেটের সমস্যা থেকেই যাচ্ছে, তাদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত।

১। কোভিড লড়াইয়ের মূল মন্ত্র বিশ্রাম। যত বেশি বিশ্রাম নেবেন, তত তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন।

২। প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়া খুব প্রয়োজন। তবে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের সমস্যা থাকলে, কতটা পানি প্রতিদিন বরাদ্ধ, সেটা আপনার চিকিৎসক জানিয়ে দেবেন। বাকিরা অন্তত ৩.৫ লিটার পানি অবশ্যই খাবেন। খালি পানি খেতে ভালো না লাগলে একটু লেবু, নুন-চিনি দিয়েও খেতে পারেন (সুগারের সমস্যা না থাকলে)।

৩। বিশ্রাম এবং পানি খাওয়ার মতো বিষয় শুনতে যতই সাধারণ মনে হোক না কেন, সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য এগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই অবহেলা করবেন না।

৪। ডাবের পানি পেটের পক্ষে খুব ভালো। খেতে পারেন। টাটকা ফলের রস খেতে পারেন। সেটা না থাকলে প্যাকেটের ফলের রস না খাওয়াই ভালো। মোট কথা শরীরকে কখনও ডিহাইড্রেটেড হতে দেওয়া যাবে না। মুখ-গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, তেমন পরিস্থিতি যেন না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

৫। অনেকেই মনে করছেন, দই খেলে গলা ব্যথা হবে বা তাড়াতাড়ি ঠান্ডা লেগে আবার জ্বর আসবে। ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। দইয়ের মধ্যে প্রচুর গুড ব্যক্টেরিয়া রয়েছে। হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য দারুণ উপকারী। তাই দই খেতে পারেন। প্রয়োজন পড়লে ঘোল বানিয়েও খেতে পারেন। কিন্তু সারা দিনের ডায়েটে দই অবশ্যই রাখবেন।

৬। পানিখাবার, দুপুরের খাবার এবং রাতের খাবারে একটা কোনো প্রোটিন রাখতে হবে। ধরুন সকালে রুটি আর ডিম সেদ্ধ খাওয়া যাবে। কিংবা দই-চিড়ে বা দই-মুড়ি। কিন্তু সব একসঙ্গে নয়।

৭। দুপুরের খাবারে অল্প ভাত, মাছ কিংবা চিকেন (একসঙ্গে দুটো নয়) এবং সব্জি থাকতে হবে। সব্জির দেওয়ার সময় মনে রাখতে হবে, যেন কিছু তরকারির মতো রান্না হয়, কিছুটা সেদ্ধ করা। এই সময় স্যালাড দিলে কাঁচা সব্জি হজম করা মুশকিল হতে পারে। তাই সেদ্ধ করে দিতে হবে।

৮। শাকে প্রচুর ভিটামিন রয়েছে বলে অনেকে খাচ্ছেন। কিন্তু খুব পরিষ্কার করে ধুয়ে ভাল করে রান্না করে খেতে হবে। তবে পেট খারাপ থাকলে শাক চলবে না একদম।

৮। ডালের প্রচুর প্রোটিন রয়েছে। তাই ডাল খাওয়ার সময়ও একটু সতর্ক থাকতে হবে। মুশুর ডালের পানি অনেকে খান। কিন্তু সেটা না খেয়ে এমনি সেদ্ধ করা মুশুর ডালও খেতে পারেন। হজম তাড়াতাড়ি হবে এবং পুষ্টিও যাবে।

৯। বিকেলের খাবারে ফের প্রোটিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই। পাঁউরুটি টোস্ট করে খেতে পারেন। ছোলা-বাদামের মতো খাবার এখন সকলে খুব খেতে বলছেন। কিন্তু পেটের সমস্যায় এগুলো একদম চলব না।

১০। রাতে আবার পনীর বা চিকেন খেতে পারেন। অ্যান্টিবডি তৈরি করার জন্য প্রোটিন খুব প্রয়োজন। কিন্তু রেড মিট একদম চলবে না। মাটন, মেটে, মাছের মাথাএই ধরনের খাবার একদম এড়িয়ে চলুন।

সম্পর্কিত বিষয়: