State Times Bangladesh

হাত পায়ের কড়া সারানোর ঘরোয়া উপায়

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:৩৫, ১১ মার্চ ২০২১

হাত পায়ের কড়া সারানোর ঘরোয়া উপায়

প্রতীকী ছবি

পায়ের তলাসহ অন্যান্য অংশ অনেক সময় শক্ত হয়ে যায়। চলতি ভাষায় একে কড়া বলা হয়। বিভিন্ন কাঁটায় আঘাত পেলেও পরবর্তী সময়ে এমন কড়া পড়তে পারে। ইংরেজিতে একে বলা হয় কর্ন। পায়ের যেসব অংশে ক্রমাগত চাপ পড়ে বা ঘষা লাগে, দীর্ঘদিন পরে সেসব অংশের ত্বক শক্ত হয়ে যায়। একে বলা হয় ক্যালাস।

যদি কড়া পড়ার কারণে আপনার শারীরিক কোনো সমস্যা হবে না, তবে এটি ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে। কড়া পড়ার শুরুর দিকে লক্ষ্য করবেন, সাধারণত আকারে গোলাকার হয়ে থাকে এগুলো। আক্রান্ত স্কানটি শক্ত, ভারি ও কালচে বা হলদে হওয়া শুরু করে।

সাজসজ্জা-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় রূপচর্চা বিশেষজ্ঞ আনিতা গোলানি জানিয়েছেন কড়া নিয়ে বিস্তারিত।

সাধারণত পায়ের পাতা, গোড়ালি, কনুই, হাত কিংবা পায়ের আঙুলে দেখা দেয়। সাধারণ কড়ার আকৃতি বিভিন্ন রকম হলেও ব্যথা হয় এমন কড়া বৃত্তাকারই হয় বেশি।

যাদের ডায়াবেটিস আছে তাদের জন্য কড়া তুলনামূলক বেশি মারাত্মক। পায়ে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা থাকলে সামান্য কড়া ভয়ংকর সমস্যা তৈরি করতে পারে। আক্রান্ত অংশ পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজ করার মাধ্যমে কড়া সহজেই দূর করা যায়।

তবে স্থায়ী সমাধান করতে হলে যে অনবরত ঘর্ষণ বা চাপ থেকে কড়া পড়ছে সেই অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে।  

ঘরোয়া প্রতিকার

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে এই সমস্যা সমাধান করা যায়।

লেবু: সব ধরনের কড়া দূর করতে লেবু কার্যকর। ব্যথাযুক্ত কড়ার মাঝখানে ব্যথা থাকে বেশি। কারণ সেটাই অভ্যন্তরীণ প্রদাহের কেন্দ্রবিন্দু। এক্ষেত্রে তাজা লেবুর রস সরাসরি কড়ার মাঝখানে প্রয়োগ করতে হবে। নিয়মিত লেবুর রস দিতে থাকলে এক পর্যায়ে কড়াটি আরও শক্ত হয়ে খসে পড়বে। যত খুশি তত লেবুর রস দিতে পারেন, এতে কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া নেই।

রসুন: আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার ভাষায় রসুন নানা ঔষধি গুণে ভরপুর। কড়াকে গোড়া থেকে নির্মূল করতে এটি বেশ কার্যকর। রসুনের ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ ব্যথাযুক্ত কড়ার ভেতরের প্রদাহ ও সংক্রমণ সারায় দ্রুত। এজন্য রসুন বাটা সরাসরি কড়ার উপরিভাগে মাখিয়ে রাখতে হবে রাতভর। পরে ধুয়ে ফেলতে হবে কুসুম গরম পানিতে।

ভিটামিন ই তেল: এই তেল কড়া সারায় আক্রান্ত স্থানের ত্বক নরম করার মাধ্যমে। রাতে ঘুমানোর আগে তেল সরাসরি আক্রান্ত অংশে মাখিয়ে মোজা পরে ঘুমাতে হবে। এতেও আছে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ যা দ্রুত কড়া সারায়।

পেঁয়াজ: পেঁয়াজের অম্লীয় উপাদান কড়া সারাতে অনন্য। এর রস এত শক্তিশালী যে নিয়মিত ব্যবহারে শক্ত হয়ে যাওয়া চামড়ার স্তর উঠিয়ে ফেলতে পারে। আক্রান্ত অংশে পেঁয়াজের রস মাখিয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ওই অংশ ঢেকে রাখতে হবে দুদিন। একসময় ত্বক নরম হয়ে কড়া সেরে যাবে।

বেইকিং সোডা: ত্বকের মৃতকোষ পরিষ্কার করতে বেইকিং সোডা বহুল ব্যবহৃত উপাদান। কড়া সারাতে বেইকিং সোডা মেশানো কুসুম গরম পানিতে পা ডুবিয়ে রাখতে হবে ১৫ মিনিট। পরে আক্রান্ত অংশ নরম হলে ঘষে কড়া পরিষ্কার করা যাবে।

ক্যাস্টর অয়েল: শুষ্ক ত্বকের জন্য ক্যাস্টর অয়েল অত্যন্ত উপকারী। কুসুম গরম পানিতে তরল সাবান আর ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে তাতে পা ডুবিয়ে রাখতে পারেন। কিংবা এই দ্রবণে পাথর ডুবিয়ে তা দিয়ে কড়া পড়া অংশ আলতোভাবে ঘষে নিতে পারেন।

আনারসের খোসা: কড়া পড়া অংশে আনারসের খোসা বেঁধে রাখলে এর অম্লীয় উপাদান কড়া দূর করবে। সারারাত রাখতে পারলে ভালো। তবে খোসা খুলে ত্বক পরিষ্কার করে সেখানে নারিকেল তেল মাখতে হবে।

যে স্থানে কড়া পড়ে, সেখানে ঘন ঘন লোশন লাগানোর অভ্যাস করুন। শুষ্ক ত্বক ক্যালাস এবং কর্ন আরও শক্ত করে দেয়। এজন্য ত্বককে আর্দ্র রাখুন।

এছাড়া আক্রান্ত স্থান স্ক্রাব করার জন্য একটি পিউমিস পাথর, ফাইলার বা ওয়াশকোথ ব্যবহার করুন। আরামদায়ক জুতা পরুন। এতে কর্ন বাড়বে না। নিয়মিত পায়ে মোজা পড়ার অভ্যাস করুন।

আপনার পায়ের নখ সবসময় ছোট রাখুন। এসব ছোট ছোট ভুল এড়িয়ে চললেই কর্ন বা ক্যালাসের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।