State Times Bangladesh

ত্বক ও চুলের যত্নে বিটরুট ব্যবহার করবেন যেভাবে

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:৩৩, ৩ মার্চ ২০২১

ত্বক ও চুলের যত্নে বিটরুট ব্যবহার করবেন যেভাবে

প্রতীকী ছবি

রসে টসটসে লাল-বেগুনি বিট নিজেই দেখতে এত সুন্দর যে রূপচর্চার ক্ষেত্রে বিটের ব্যবহারের কথা উঠলে কেউই উড়িয়ে দেবে না। এখনকার দিনে প্রাকৃতিক উপাদানের সাহায্যে চর্চাকে সারা বিশ্বেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এক গাদা মেকআপের আবরণে নিজেকে ঢেকে না রেখে সুস্থ, সুন্দর, সজীব ত্বকের জয়জয়কার এখন সারা বিশ্বে। আর সঙ্গে বাড়তি পাওনা হিসেবে যদি ঘন, ঝলমলে এক ঢাল চুল থাকে, তবে তো সোনায় সোহাগা।

বিটে প্রাকৃতিক লাল রঞ্জক পদার্থ থাকায় ত্বক ও ঠোঁট রাঙাতেও অনেক মেকআপ কোম্পানি বিট চূর্ণ ব্যবহার করছে। আমাদের স্বাভাবিক ত্বক, রূপলাবণ্য আর চুলের বাহারকে আরও সুন্দর ও মোহনীয় করে তুলতে বিটের ব্যবহারগুলো দেখে নেওয়া যাক।

গোলাপি উজ্জ্বল ত্বক পেতে: বিটরুট টুকরো করে কেটে মুখে এবং ঘাড়ে ঘষে ঘষে লাগান। ১৫ মিনিট অপেক্ষার পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত এভাবে ব্যবহারে ত্বক হবে উজ্জ্বল গোলাপি।

ডার্ক সার্কেল দূর করতে: বিটরুটের রসের সঙ্গে মধু এবং দুধ মেশান। এবার কটন বাড দিয়ে মিশ্রণটি চোখের চারপাশে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

ঠোঁটের কালচে ভাব দূর করতে: বিটরুটের রস ঠোঁটে লাগিয়ে নিন। চাইলে পেস্ট করা বিটরুটের সঙ্গে চিনি মিশিয়ে ঠোঁটে ঘষতে পারেন। এতে মরা কোষ দূর হবে এবং ঠোঁট হবে কোমল।

চুল পড়া প্রতিরোধ করে: বিটরুটের রস চুলের গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে ধুয়ে নিন। হেয়ার মাস্কের জন্য রসের সঙ্গে কফি মিশিয়ে ব্যবহার করুন। এটি কন্ডিশনার হিসেবেও ভালো কাজ করে।

মসৃণ ত্বক পেতে: এটি বিটরুট ব্লেন্ড করে এতে দুই চামচ দই এবং সামান্য আলমন্ড অয়েল মেশান। মিশ্রণটি মুখ এবং শরীরে ম্যাসাজ করে নিন। ১০-২০ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

বলিরেখা প্রতিরোধে: বিটরুট রসের সঙ্গে মধু এবং দুধ মেশান। এই মাস্কটি সারা মুখে পাতলা করে লাগিয়ে নিন। সপ্তাহে এক বা দুই বার এই মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন। এটি বলিরেখা প্রতিরোধে সহায়ক হবে।

খুশকি তাড়াতে: সামান্য ভিনেগার অথবা নিমের পানি বিটরুটের রসে মেশান। মাথায় লাগানোর কিছুক্ষণ পর শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।  এটি খুশকি দূর করে চুল করবে মসৃণ এবং ঝরঝরে।

ব্রণ দূর করতে: বিটরুটের রসের সঙ্গে সমপরিমাণ টমেটোর রস মেশান। মিশ্রণটি মুখে লাগিয়ে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটি ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস দূর করতে সহায়তা করে। 

নারকেল তেলে বিটের নির্যাস মিশিয়ে তৈরি হয় বিট এসেনশিয়াল ওয়েল। এই তেল চুলের গোড়া ও ত্বকে মেসেজ করে অনেক উপকার পাওয়া যায়। এই তেল ব্যবহার করে প্রাকৃতিক সাবানও বানানো হয়।

বিটের ফেসপ্যাক: বিটের সঙ্গে চালের গুঁড়ো, দুধের সর, দই, গোলাপ জল অথবা মুলতানি মাটির মতো ক্লে মাস্ক মিলিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকে টানটান ভাব ও লাবণ্যময় আভা ফুটে ওঠে। বিটের ভিটামিন সি কোলাজেনের আধিপত্য বাড়িয়ে ত্বককে সুস্থ-সুন্দর করে তোলে।

চুলের যত্নে বিটের রস: সরাসরি চুলের গোড়ায় নারকেল তেলে মিশিয়ে বিট জুস মেসেজ করতে হয়। খুশকিমুক্ত, মজবুত গোড়াযুক্ত চুল পেতে এই মেসেজ অনেক কার্যকর বলে অনেক স্যালন এক্সপার্ট মত দিয়ে থাকেন। চুল পড়াও কমে আসে বিট ব্যবহারে।

সম্পর্কিত বিষয়: