State Times Bangladesh

টিকার মিশ্র ডোজে বেশি সুরক্ষা : গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:১০, ২৯ জুন ২০২১

আপডেট: ১৩:১৩, ২৯ জুন ২০২১

টিকার মিশ্র ডোজে বেশি সুরক্ষা : গবেষণা

প্রতীকী ছবি

প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ হিসেবে দুই ব্র্যান্ডের টিকা প্রয়োগ করা হলে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ভালো সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে বলে যুক্তরাজ্যে এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

কম-কোভ ট্রায়াল নামের এই গবেষণায় দেখা হয়েছে যে, ফাইজার বা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুইটি করে ডোজে কোভিড-১৯ সুরক্ষায় বেশি কাজ করছে নাকি এই দুই টিকার সংমিশ্রণে?

সেই গবেষণায় দেখা গেছে, দুই ধরনের টিকার সংমিশ্রণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সবচেয়ে বেশি ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্যের ফলে বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের টিকা ব্যবহার আরও সহজ হবে।

এই গবেষণায় আরও জানা গেছে যে, যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুইটি ডোজ পেয়েছেন, তারা যদি বুস্টার ডোজ হিসাবে তৃতীয় আরেকটি প্রতিষ্ঠানের টিকা নেন, তাহলে সেটি তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

যুক্তরাজ্যের উপ-প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রফেসর জোনাথন ভ্যান-ট্যাম বলেছেন, এখন যুক্তরাজ্যে যেভাবে একই প্রতিষ্ঠানের পরপর দুই ডোজ টিকা সফলভাবে দেয়া হচ্ছে, সেখানে পরিবর্তন আনার কোন দরকার নেই, যেহেতু যথেষ্ট পরিমাণে টিকার সরবরাহ রয়েছে এবং মানুষকে সুরক্ষা দিতে পারছে।

কিন্তু তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে হয়তো নতুন এই গবেষণার ফলাফলের দিকে তাকাতে হবে।

''টিকার সংমিশ্রণ হয়তো আমাদের বুস্টার কর্মসূচীকে আরো সহজ করবে। সেই সঙ্গে যেসব দেশে টিকার সংকট রয়েছে অথবা তাদের টিকাদান কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করতে চান, তাদের জন্য এটি সহায়ক হবে।'' তিনি বলছেন।

ইতোমধ্যেই বিশ্বের অনেক দেশ টিকার মিশ্র ব্যবহার শুরু করেছে।

স্পেন আর জার্মানিতে যারা প্রথম ডোজ হিসাবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পেয়েছেন, তাদেরকে (বিশেষ করে তরুণদের) দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে ফাইজার বা মর্ডানার টিকা গ্রহণের প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। যদিও এজন্য তারা টিকার কার্যকারিতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বিরল রক্ত জমাট বাধার মতো সমস্যা এড়ানোর জন্য।

কোভিড-১৯ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পেতে এবং শরীরের ভেতর এই ভাইরাস প্রতিরোধী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি, সেটিকে আটকে দেয়া ও ধ্বংস করার মতো টি সেল তৈরির করার জন্য টিকার দুইটি ডোজ গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই কম-কোভ পরীক্ষায় ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৮৫০ জন স্বেচ্ছাসেবীর ওপর গবেষণা চালানো হয়।

সেখানে দেখা গেছে:

অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়ার পর যদি দ্বিতীয় ডোজ হিসাবে ফাইজারের টিকা দেয়া হয়, তাহলে অ্যান্টিবডি ও টি সেল তৈরিতে বেশি কাজ করে। কিন্তু ফাইজারের টিকার পর অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেয়া হলে ততটা উপকার পাওয়া যায় না।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুইটি ডোজের তুলনায় এই দুই ধরনের টিকায় শরীরের বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

ফাইজারের দুইটি ডোজের পর শরীরে সবচেয়ে বেশি অ্যান্টিবডি তৈরি হতে দেখা গেছে। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার পর ফাইজারের টিকা নেয়া হলে শরীরে সবচেয়ে বেশি টি সেলের তৈরি হয়েছে।

প্রধান গবেষক, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাথিউ স্ন্যাপ বলেছেন, যুক্তরাজ্যে এখন যেভাবে মানুষজনকে একই ধরনের টিকার পরপর দুই ডোজ দেয়া হচ্ছে, এই গবেষণায় সেটাকে খাটো করে দেখানো হচ্ছে না।

''আমরা এতদিনে জেনে গেছি যে, এই মানের দুইটি টিকা মানুষকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া বা হাসপাতালে যাওয়া থেকে ঠেকাতে পারে। বিশেষ করে আট থেকে ১২ সপ্তাহের ব্যবধানে দেয়া হলে সেটা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ঠেকাতেও কার্যকর।''

তিনি বলেছেন, নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে, টিকার মিশ্রণও সেই সঙ্গে সমান কার্যকরী, যদিও এক মাসের ব্যবধানে দুই ধরনের টিকা দেয়ার ফলে সময় কম নেয়া হয়েছে, যেখানে যুক্তরাজ্যে এখন তিনমাসের ব্যবধানে টিকা দেয়া হচ্ছে।

''দুই টিকার মাঝে লম্বা সময় নেয়া হলে সেটা শরীরের বেশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে,'' তিনি বলছেন।

তিন মাসের ব্যবধানে দুই ধরনের টিকা প্রয়োগ করে একটি গবেষণার ফলাফল সামনের মাসে জানা যাবে।

পাশাপাশি অপ্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় জানা যাচ্ছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নেয়ার পরবর্তী ছয় মাস পরে আরেকটি ডোজ নেয়া হলে সেটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের এই শীতের আগে তৃতীয় বুস্টার ডোজ লাগবে কিনা, সেটা বলার জন্য এখনো সময় আসেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কতটা হ্রাস পায়, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

সূত্র : বিসিসি

সম্পর্কিত বিষয়: