State Times Bangladesh

উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণকে ‘গণহত্যা’ ঘোষণা করল কানাডা

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৮, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

উইঘুরদের সঙ্গে চীনের আচরণকে ‘গণহত্যা’ ঘোষণা করল কানাডা

উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা কর্তৃপক্ষের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ রয়েছে

চীনে উইঘুর মুসলিমদের প্রতি যে আচরণ করা হচ্ছে তাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিহিত করে ভোট দিয়েছে কানাডার হাউজ অব কমন্স। যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় দেশ হিসেবে কানাডা উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনা আচরণকে গণহত্যা বলে স্বীকৃতি দিল। খবর বিবিসির।

প্রস্তাবটি ২৬৬-০ ভোটে পাস হয়। এতে বিরোধী দলের সবাই এবং ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির কিছু অংশ ভোট দেয়। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার মন্ত্রিসভার বেশির ভাগ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন। 

আইনপ্রণেতারা একইসঙ্গে একটি সংশোধনী পাস করেছেন যেখানে 'চীন সরকার উইঘুর গণহত্যা অব্যাহত রাখলে' ২০২২ সালের শীতকালীন অলিম্পিক বেইজিং থেকে সরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটিকে আহ্বান জানানোর জন্য কানাডা কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে জাস্টিন ট্রুডো সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের প্রতি চীনা আচরণকে গণহত্যা বলতে কিছুটা দ্বিধান্বিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করা দরকার বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভোটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ইরিন ও'টুল বলেন, এ পদক্ষেপ হলো একটি বার্তা দেওয়া যে, আমরা মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদার পক্ষে দাঁড়াবো এমনকি কিছু অর্থনৈতিক সুযোগ ত্যাগ করে হলেও।

তিনি সম্প্রতি উইঘুরদের নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিবিসি নিউজকে চীনে নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ করেন। তবে কানাডায় চীনের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, পার্লামেন্টের প্রস্তাব চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করে আসছে, জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে ক্যাম্পে আটক রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীন সরকার। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, প্রদেশটিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং গণহত্যার মত অপরাধ সেখানে সংঘটিত হচ্ছে।

তারা বলছেন, ‘শিক্ষা শিবির’ নামক ক্যাম্পে উইঘুরদের আটকে রেখে তাদের চীনা ম্যান্ডারিন ভাষা শেখানো হচ্ছে। কমিউনিস্ট পার্টির প্রশংসার কথা বলা এবং তাদের সঠিক আচরণ পরিচালনার নিয়মগুলো কঠোরভাবে মনে রাখতে বাধ্য করা হচ্ছে। তাদের নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সমালোচনা করতে অথবা সেই ধর্ম পরিত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ অভ্যাসগুলোর অংশ হিসেবে চীন সরকার সাংঘর্ষিকভাবে জিনজিয়াংয়ের উইঘুর সংস্কৃতি ও জাতিগত সত্তাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ‘সন্ত্রাসবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সংখ্যালঘুদের ক্যাম্পে রেখে ‘বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়: