State Times Bangladesh

মেডিকেলে ভর্তিতে বেড়েছে আসন, সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:০২, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১২:২৩, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১

মেডিকেলে ভর্তিতে বেড়েছে আসন, সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

দেশের সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। মেডিকেল কলেজগুলোতে ২৮২টি আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ সিদ্ধান্ত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হবে।

দেশের ১৮টি সরকারি মেডিকেল কলেজে আসনসংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৩০।

সম্প্রতি প্রকাশিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্মারকে বলা হয়, সুনামগঞ্জে নতুনভাবে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ এবং অন্য ১৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে আসন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ওয়েবসাইটে এমবিবিএস কোর্সের ভর্তির সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে বিজ্ঞপ্তিটি শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের ওয়েবসাইটে (mefwd.gov.bd) পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তির বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, ওই বছর সরকারি মেডিকেল কলেজের আসনসংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৬৮। আর এবার নতুন একটি মেডিকেল কলেজে (বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ, সুনামগঞ্জ) প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি নেবে। এতে আসনসংখ্যা রয়েছে ৫০। তা ছাড়া আগের মেডিকেলগুলোতে এবার আসনসংখ্যা বেড়েছে ২৩২। ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে সব মিলিয়ে ২৮২টি আসন বাড়ছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, রংপুর মেডিকেল কলেজে আসন রয়েছে মোট ২৩০টি করে। শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের আসন সংখ্যা ২০০। তা ছাড়া কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, খুলনা মেডিকেল কলেজ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ, এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের ১৮০টি করে আসনসংখ্যা রয়েছে। এ ছাড়া বাকি মেডিকেল কলেজগুলোতে আসনসংখ্যা ১০০–এর নিচে।

এদিকে ১৭ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এমবিবিএস ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে (সংশোধিত) দেখা যায়, সরকারি মেডিকেলে এবার সর্বমোট আসনসংখ্যা রয়েছে ৪ হাজার ৩৫০। এর মধ্যে ৪ হাজার ২৩০টি সাধারণ কোটায় আর বাকি ১২০টি বিভিন্ন কোটায় সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্য ৮৭টি রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কোটায়।

বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে মেডিকেল ভর্তির আবেদন চলছে। আগামী ১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন আগ্রহী শিক্ষার্থীরা। আগামী ২ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের ১৯টি কেন্দ্রে একযোগে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইলের মাধ্যমে এক হাজার টাকা জমা দিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

আগামী ২০ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত মেডিকেল ভর্তির জন্য প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। আগামী ২ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা হবে এক ঘণ্টায়।

১০০ নম্বরের ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে শিক্ষার্থীদের। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১০ নম্বর (মোট ১০০) থাকবে।

লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। এর কম পেলে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত হবেন। কেবল কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকাসহ ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসেবে নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হবে। লিখিত পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

এবারও আগের নিয়মেই ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। এ ক্ষেত্রে আবেদনের শর্ত এবং এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএর ওপর ধার্য করা ২০০ নম্বরও কমানো হচ্ছে না। পূর্ববর্তী বছরের এইচএসসি পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বছরের সরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৭ দশমিক ৫ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক এবং ‌‘ও’ লেভেল ‘এ’ লেভেল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে তাঁদের পরিচালক, চিকিৎসা শিক্ষা স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর, মহাখালী, ঢাকা বরাবর দুই হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট/ পে–অর্ডারসহ আবেদন করতে হবে। আবেদন করে সিজিপিএ রূপান্তর করে সমমানের সার্টিফিকেট সংগ্রহের সময় আইডি নম্বর নিতে হবে। সমমানের সার্টিফিকেট সংগ্রহের সময় এসএসসি সনদের সত্যায়িত কপি সঙ্গে আনতে হবে।

 

সম্পর্কিত বিষয়: