State Times Bangladesh

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনিয়ম

বিএনপির ভিসি বানিয়েছেন ছাত্র, আওয়ামী লীগের ভিসি করলেন শিক্ষক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩:১৫, ১০ জুন ২০২১

আপডেট: ১৫:৫৭, ১০ জুন ২০২১

বিএনপির ভিসি বানিয়েছেন ছাত্র, আওয়ামী লীগের ভিসি করলেন শিক্ষক

অধ্যাপক আলতাফ হোসেন (বাঁয়ে) ও অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান

ইন্দ্রনীল মিশ্র। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন বহুল সমালোচিত একটি নাম। তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন মিশ্র। তিনি এখন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পরিচালকের দায়িত্বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় নিজের মেধায় সুযোগ পাননি ইন্দ্রনীল। বাবা শিক্ষক হওয়ায় পোষ্য কোটা পেয়েও ভর্তির সুযোগ হয়নি। পরে বিএনপি আমলের তৎকালীন উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বিশেষ ক্ষমতায় তাকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেন। এর মাধ্যমে ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র হয়ে যান ইন্দ্রনীল।

স্নাতকের একটি কোর্সে ফেল করেছিলেন ইন্দ্রনীল। চূড়ান্ত পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ ১৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনি দশম। ফলাফল খারাপ হওয়ায় স্নাতকোত্তরে থিসিস গ্রুপে যাওয়ার সুযোগ পাননি। এতকিছুর পরও তিনি-ই এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। কোনো প্রকার যোগ্যতা না থাকলেও অবৈধভাবে তাকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, বাবা শিক্ষক হওয়ায় ইন্দ্রনীল মিশ্র সব ধরনের সুযোগ পেয়েছেন। বিএনপিপন্থী উপাচার্যের মদদে যোগ্যতা না থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়েছেন। আর আওয়ামীপন্থী উপাচার্যের ক্ষমতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়েছেন।

ইন্দ্রনীল মিশ্র

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য বিদায়ী উপাচার্য এম আবদুস সোবহান শেষদিনে ১৩৮ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে ৯ জন শিক্ষক হিসেবে নিযোগ পান। তাদের একজন এই ইন্দ্রনীল মিশ্র।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইন্দ্রনীল মিশ্রের বিএসসি (স্নাতক) পরীক্ষার রোল নম্বর ছিল ০৬১১৫৬২২। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। স্নাতকে ৪০৩ নম্বর কোর্সে ফেল করেছিলেন। ২০০৯ সালের বিএসসি চূড়ান্ত পরীক্ষায় (২০১০ সালে সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত) দ্বিতীয় শ্রেণি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এমএসসি (স্নাতকোত্তর)-তে থিসিস গ্রুপে যাওয়ার ভাগ্য হয়নি তার।

এমন একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে দেখে অন্যদের মতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এমদাদুল হক।

অধ্যাপক এমদাদুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, বিভাগে নিয়োগের জন্য সার্কুলার দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সার্কুলারের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষা না নিয়েই একজন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের সার্কুলার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। সেখানে আবেদনকারীর স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ভাইভা পরীক্ষা নিয়ে একজন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ইন্দ্রনীলের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি। এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হলো যে কোনোভাবেই শিক্ষক পদে কাম্য নয়। ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখছে। যদি এটা বাতিল হয়, তবে বিভাগের জন্য যেমন মঙ্গল হবে, সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও মঙ্গল হবে।

অধ্যাপক এমদাদুল আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের সার্কুলারে প্রথম শ্রেণি থাকতে হবে এমন বলা থাকে না। তবে যারা আবেদন করবে তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। এই নিয়ম অনুযায়ী ইদ্রনীল মিশ্রের শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা নেই।

এ বিষয়ে জানতে ইন্দ্রনীল মিশ্র ও তার বাবা অধ্যাপক চিত্ত রঞ্জন মিশ্রের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তারা ফোন রিসিভ করেননি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, এমন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া বিস্ময়কর। এটা শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখভাল করছে। তাদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আমরা পরবর্তী সময়ে তাদের যোগদান করতে দেব কি না সেটা জানাতে পারব।