State Times Bangladesh

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোপন নথি’ চুরি করেছেন উপাচার্যের জামাতা!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:২৪, ৪ মে ২০২১

আপডেট: ১৭:৪৬, ৪ মে ২০২১

বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোপন নথি’ চুরি করেছেন উপাচার্যের জামাতা!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনের তালা ভেঙে সিন্ডিকেটের নিয়োগ সংক্রান্ত ‘গোপন নথিপত্র’ চুরির অভিযোগ উঠেছে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের জামাতার বিরুদ্ধে।

তার নাম এ টি এম শাহেদ পারভেজ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) প্রভাষক। 

আরও পড়ুন- এই গুলি চালাও…(ভিডিও)

গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে সিনেট ভবনের পেছনের গেটের তালা ভেঙে ওই নথিপত্র চুরি করার অভিযোগ তুলেছেন বিশ্বিবদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজ।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ তোলেন শিক্ষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, গতকাল সোমবার রাতে উপাচার্যের জামাতা এ টি এম শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে বহিরগতরা সিনেট ভবনের তালা ভেঙে সিন্ডিকেটের কাগজপত্র বের করে নিয়ে আসে।

গতকাল দিনভর ১৫০ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দানের উদ্দেশ্যে কাগজপত্র প্রস্তুর করা হয় এবং রেজিস্ট্রারকে তাতে স্বাক্ষর করার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তবে আমরা জানতে পেরেছি, রেজিস্ট্রার দপ্তরের নিম্নতম একজন কর্মকর্তা দিয়ে এটি স্বাক্ষরের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, আমরা কারও নিয়োগের বিরোধী নই, কিন্তু প্রচলিত বিধি মোতাবেক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

আরও পড়ুন- শিক্ষকদের গুলি করতে চাওয়া কে এই যুবক?

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদী, প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আলী রেজা অপু, জাহাঙ্গীর আলম সাঈদ, তরিকুল হাসান মিলন, সদস্য সচিব অধ্যাপক প্রদীপ কুমার পান্ডে, সদস্য অধ্যাপক এসএম একরাম উল্লাহ, আবদুল্লাহ আল মামুন ও আসাদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা।

আজকের আন্দোলনের নেতৃত্বে উপাচার্যের জামাতা

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা বলেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উপাচার্যের জামাতার নেতৃত্বে আজ সকাল থেকে বহিরাগত ক্যাডাররা উপাচার্যের বাড়ির সামনে অবস্থান নেয়। দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা উপাচার্যের শেষ সময়ে সিন্ডিকেট শান্তিপূর্ণভাবে বন্ধ করার চেষ্টা করলে উপাচার্যের জামাতা এ টি এম শাহেদ পারভেজ ও প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান নেতৃত্বে তা প্রতিহত করার চেষ্টা চলে। এ সময় উপাচার্যের জামাইয়ের নেতৃত্বে বহিরাগত ক্যাডার বাহিনী শিক্ষকদের গুলি করার হুমকি দেয়।

প্রক্টরের পদত্যাগ দাবি করে দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকরা জানান, এ ক্ষেত্রে প্রক্টরের ভূমিকা ন্যাক্কারজন, আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি। একই সঙ্গে মাস্টারররোলের কর্মচারীদের ঈদ বোনাসের ব্যবস্থা করা হোক। আগামী ৬ মে’র পরে উপাচার্যের বিচার প্রক্রিয়ার শুরু করার দাবিও জানান শিক্ষকরা।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপাচার্যের জামাতা এ টি এম শাহেদ পারভেজ মুঠোফোন রিসিভ করেননি।

উপাচার্যের বাসভবনের সামনে যা ঘটেছিল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক দিন ধরেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গত রোববার ও সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, সিনেট ভবন তালাবদ্ধ করে রাখে ছাত্রীলগের নেতাকর্মীরা। আজ বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে সিন্ডিকেট সভা হওয়ার কথা ছিল। সেই সভা নিয়ে কথা বলতে আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের বাসভবনে যেতে চান বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্নীতিবিরোধী কয়েকজন শিক্ষক। এ সময় উপাচার্য বাসভবনে গেটে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও ঝুলছে তালা

স্থানীয় কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশী যুবক ও ক্যাম্পাসের সাবেক কয়েকজন ছাত্র ওই শিক্ষকদের ভেতরে যেতে বাধা দেন। তাদের মধ্যে চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগ নেতারাও ছিলেন। শিক্ষকরা তবুও যেতে চাইলে বাধা দেওয়া আকাশ তাদের গুলি করতে চান। এ কথা শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম টিপু, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সফিকুন্নবী সামাদীসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক রেগে সামনে এগিয়ে যান। শিক্ষকরা বলেন, ‘এই গুলি করার কথা বলল কে?’ এ কথা বলে সামনে এগিয়ে দিয়ে শিক্ষকরা হাত উঁচু করে বাধা দেওয়া যুবকদের উদ্দেশে বলতে থাকেন, ‘এই গুলি চালাও, এই গুলি চালাও। এ সময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানকে দেখা যায়।

শিক্ষকরা লাঞ্ছিত

একপর্যায়ে সেখানে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের উপস্থিতিতে ‍দুর্নীতিবিরোধী শিক্ষকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে উপাচার্যের বাসভবন পাহারায় থাকা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী।

আজ উপাচার্য এম আবদুস সোবহানের মেয়াদের শেষ সিন্ডিকেট সভা তার বাসভবনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে শিক্ষকদের বাধার মুখে বেলা ১১টার দিকে সেই সভা স্থগিত করা হয়।

আরও পড়ুন- রাবি উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি