State Times Bangladesh

বাস বন্ধে অসন্তোষ

বিএনপি সমাবেশ: আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:২২, ২ মার্চ ২০২১

আপডেট: ২১:২৪, ২ মার্চ ২০২১

বিএনপি সমাবেশ: আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সমাবেশ থেকে নেতাকর্মীদের নতুন করে আন্দোলনের প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। নেতৃবৃন্দ বলেছেন, ইতোমধ্যে রাজপথ উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। অচিরেই সরকার পতনের আন্দোলন শুরু হবে। এই আন্দোলনে সবাইকে সামিল হতে হবে।

মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী মহানগরীর মাদরাসা ময়দান সংলগ্ন একটি কমিউনিটি সেন্টারের পাশে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

এদিকে সমাবেশ ঘিরে একদিন আগে থেকেই বাস চলাচল বন্ধ থাকায় দূরের নেতাকর্মীরা পড়েছেন বিপাকে। ফলে অনেক কাঙ্ক্ষিত নেতাকর্মী সমাবেশে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানা গেছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে প্রস্তুত আছি। জীবনের শেষবিন্দু রক্ত দিয়ে হলেও গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলনে আমি আছি। সকলে প্রস্তুতি নিন।’

টুকু বলেন, দেশ এখন দুর্নীতিতে ভরে গেছে। ফরিদপুরের ছাত্রলীগ সভাপতিই দুই হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। তাহলে রাঘব-বোয়ালরা কত টাকা পাচার করেছে তার হিসাব দেশের জনগণ নেবে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ এখন সরকারি দলের কর্মী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার আগে থেকেই দেশের নানা সমস্যার সমাধান হয়েছে রাজপথে। এবারও রাজপথেই ফয়সালা হবে।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারপারসনের অন্যতম উপদেষ্টা লে. কর্নেল (অব.) আবদুল লতিফ ঢাকা থেকে আন্দোলন জোরদার করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সাতদিনের মধ্যে সরকারের পতন দেখতে পাব। এর জন্য ঢাকার রাজপথে রক্ত দিতে হবে। রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামে আন্দোলন করে কিছু হবে না। ঢাকাকে সুসংগঠিত করতে হবে।’

পরে বক্তব্য দেয়ার সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন ঢাকায় আন্দোলন জোরদার করার ঘোষণা দেন। ইশরাক বলেন, ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে আজ একটা সুন্দর পরিবেশ থাকার কথা ছিল। তার বদলে আমাদের আন্দোলনের বার্তা নিয়ে রাজশাহী আসতে হয়েছে। আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে।’ তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘আজ জাতীয় ভোটার দিবস। অথচ মানুষ ভোটই দিতে পারে না। আমরা এমন অবস্থা চাই না। সে কারণে আন্দোলনের আর কোন বিকল্প নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে এই সমাবেশ শুরু হয়।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকার আন্দোলনের ভয়ে আগে থেকেই বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে বিএনপির আন্দোলনকে বিফল করার চেষ্টা করেছে। যার কারণে ইচ্ছাকৃতভাবেই একদিন আগেই যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজও পরিবহন বন্ধ। এজন্য অনেক নেতাকর্মী দূরদূরান্ত থেকে সমাবেশে আসতে পারেননি। বিনা বাধায় সমাবেশ করতে দিলে রাজশাহীর এই বিভাগীয় সমাবেশে গণজোয়ারের সৃষ্টি হতো।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। সমাবেশ পরিচালনা করেন নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। সমাবেশে বিভাগের আট জেলার সভাপতি ও সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশ নেন।

সোমবার সকাল থেকে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও তারা বিভিন্ন যানবাহনে সমাবেশে আসেন। দুপুরের পর থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে তারা সমাবেশে যোগ দেন। পথে পথে পুলিশের সদস্যরা সন্দেহজনক ব্যক্তিদের শরীর তল্লাশি করে। সমাবেশকে ঘিরে রাজশাহীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সমাবেশস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল জলকামান, এপিসি যান এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি করে গাড়ি।

এদিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলছেন, ‘বিএনপি একেবারেই মধ্য শহরের রাস্তায় সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু এসব এলাকায় সমাবেশ করলে মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। তীব্র যানজট দেখা দেবে। এ জন্য মধ্যশহরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে তাদের ইনডোরে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।’

তিনি যোগ করেন, ‘তারা যেন প্রস্তুতি নিতে পারে সে জন্য মৌখিকভাবে আগাম তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সন্ধ্যার মধ্যে তাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- হাবিবুর রহমান হাবিব, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সারোয়ার, হারুনার রশিদ এমপি, রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত। এছাড়াও বক্তব্য দেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সামসুল হক প্রামানিক, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা প্রমুখ।