State Times Bangladesh

এলপিজির মূল্য পুনরায় নির্ধারণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৩০, ১৫ জুন ২০২১

আপডেট: ২০:৫০, ১৫ জুন ২০২১

এলপিজির মূল্য পুনরায় নির্ধারণের দাবি

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত এলপিজির মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া সঠিক হয়নি। নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি করলে ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়বে। তাই এই মূল্য পুনরায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে এলপিজি অপারেটস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব)।

পাশাপাশি গ্যাসের মূল্য প্রতিমাসে পরিবর্তন না করে বছরে একবারই নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে লোয়াব।

আজ মঙ্গলবার হোটেল রূপসী বাংলায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তোলে সংস্থাটি।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ১২ এপ্রিল বিইআরসি যে এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছে তা সঠিকভাবে হয়নি।

প্রত্যেক মাসের শুরুতে এলপি গ্যাসের আন্তর্জাতিক মূল্য (সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস বা সিপি) ঘোষণা করা হয়। তাই এলপি গ্যাসের সিপি ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যহার ঘোষণা করা প্রয়োজন।

বিইআরসি বর্তমানে একমাস পর মূল্যহার ঘোষণা করছে। যেহেতু তাদের মূল্যহার ঘোষণার পর পরই ভিন্ন মূল্যে নতুন সিপি ঘোষিত হয় সেহেতু মূল্যহার নিয়ে বাজারে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, অটো গ্যাসের দাম প্রতিমাসে পরিবর্তন করা হলে গ্রাহক পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেবে। কারণ বাজারে যানবাহনের অন্য যে সব জ্বালানি আছে যেমন, সিএনজির দাম প্রতিমাসে পরিবর্তন করা হয় না। তাই অটো গ্যাসের দাম বছরে একবার নির্ধারণ করতে বিইআরসিকে অনুরোধ করে লোয়াব।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন- বেক্সিমকো পেট্রোলিয়ামের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মুনতাসির আলম, পেট্রোম্যাক্স রিফাইনারির সিইও নাফিস কামাল, ওমেরা এলপিজির সিইও শামসুল হক আহমেদ, বসুন্ধরা এলপিজির হেড অব সেলস জাকারিয়া জালাল প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, গেল ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজির) মূল্য নির্ধারণ করে বিইআরসি। পরে প্রতি মাসেই আমদানি মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করে আসছিলো বিইআরসি। কিন্তু এলপিজি ব্যবসায়ীরা শুরু থেকেই ঘোষিত মূল্যের বিরোধিতা করে আসছিলেন। এমনকি বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করেনি তারা।

ব্যবসায়ীদের আপত্তিতে ফের শুনানির জন্য আগামী ৭ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। সেবা খাত হিসেবে তাদের ব্যবসায় যেন ক্ষতি না হয় সেটি বিবেচনা করে এইখাতে সাবসিডি দিয়ে গ্রাহককে সুলভ মূল্যে এলপিজি দেওয়ার সুপারিশ করে লোয়াব।

এলপি গ্যাসকে একটি সেবামূলক ব্যবসা উল্লেখ করে লোয়াব বলছে, বেসরকারি এলপি গ্যাস অপারেটররা আশা করে ভোক্তা সাধারণের কাছে সুলভমূল্যে এলপি গ্যাস পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং এলপি গ্যাস শিল্পের সুষ্ঠু বিকাশের লক্ষ্যে সরকার প্রত্যেক অপারেটরের উপর থেকে ব্যবসায়ীর কোটি টাকার বার্ষিক ফি এবং যে সকল শুল্ক ধার্য করে আসছে তার যৌক্তিকীকরণ করবেন এবং পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সাবসিডি দিয়ে ভোক্তা সাধারণের কাছে সুলভ মূল্যে তা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধও করেন তারা।

সম্পর্কিত বিষয়: