State Times Bangladesh

প্যান্ট চুরি করে ধরা পড়লেন ছাত্রলীগ নেতা, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১২ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৭:১১, ১২ এপ্রিল ২০২১

প্যান্ট চুরি করে ধরা পড়লেন ছাত্রলীগ নেতা, ভিডিও ভাইরাল

সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

রাজশাহীর তানোরে দিনে-দুপুরে প্যান্ট চুরে করে ভাইরাল হয়েছেন জেলা ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান ওরফে জুয়েল রানা। শনিবার তানোর পৌর এলাকার প্রদীপ সুপার মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  ছড়িয়ে পড়ে তা ভাইরাল হয়।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা তানোর উপজেলার চাপড়া এলাকার মমতাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। 

প্যান্ট চুরি করে ৩২০ টাকা জরিমানা দিয়েছেন জুয়েল রানা। এসময় তিনি ব্যবসায়ীদের সামনে ক্ষমাও চান।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা গেছে, দুজন ক্রেতা দোকান থেকে বেরিয়ে যান। ওই সময় ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা দোকানের সামনে এসে বাইরে টাঙানো একটি জিন্স প্যান্ট নামান। পরে সেই প্যান্ট নিয়ে সোজা মার্কেট থেকে বেরিয়ে যান। 

 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা বলেন, ‘আমি প্যান্টটা চুরি করিনি। মজা করেছি। সন্ধ্যায় মজা করে- সকালে ওই প্যান্ট পরে এসে টাকা দিয়ে দিয়েছি। একজন অপরিচত মানুষ আমাকে মার্কেটের পেছনে পানের সাথে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। এর পর থেকে আমি আর কথা বলতে পারিনি। নেশা নেশা লাগছিলো। বিষয়টি অনেকেই জেনে যাবে তাই, না কথা বলে প্যান্টটা নিয়ে যায়।’

আপনাকে সিসিটিভ ফুটেজে দেখা গেছে আর ১০ টা মানুষের মতই স্বাভাবিক হেঁটে যাচ্ছেন এমন কথা উত্তরে তিনি- বিষয়টি এড়িয়ে যান।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ জানান, ‘শনিবার বিকেলে পরে চুরের ঘটনা ঘটেছে। আমি দোকানে ছিলাম না। আর ছোট ভাই দ্বীপ ছিলো। আমি প্যান্টটা দেখতে না পেয়ে দ্বীপকে জিজ্ঞাসা করে। সেও বলতে পারে না। এর পরে দোকানের অন্য সব জায়গায় খুঁজে দেখে সেখানেও না পেয়ে পাশের একটি দোকানে সিটিটিভি ক্যামেরা লাগানো আছে।

তিনি আরও জানান, সিসিটিভির ভিডিও দেখে জুয়েল রানাকে শনাক্ত করি। পরে তাকে ফোন দিলে এসময় জুয়েল রানা আমাকে (প্রসেনজিৎ) জানায়- ভাই আমি বিষয়টি আপনাকে বলবো বলবো মনে করছিলাম। কিন্তু আপনিই ফোন দিলেন। এর পরে জুয়েল রানা মার্কেটে আসে। এসময় গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সারওয়ার ও সম্পাদক পাপুল সরকারের উপস্থিতিতে ৩২০ টাকা জরিমানা দেয়।’

এ বিষয়ে গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক পাপুল সরকার বলেন, সালিসে তিনি নেশার ঘোরে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন। কিন্তু ভিডিও ফুটেজ দেখে তেমনটি মনে হয়নি। তিনি দোষ স্বীকার করে সবার সামনে ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি আরও সমিতির পক্ষ থেকে তাকে পুলিশে সোপর্দ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু দোকান মালিক জুয়েল রানার ঘনিষ্ঠ তিনি। দাম পাওয়ার পর তিনি আর আইনি ব্যবস্থা নিতে রাজি হননি। ফলে সেখানেই বিষয়টি সমাধান হয়ে যায়।