State Times Bangladesh

বসুরহাটে সংঘর্ষ

সাংবাদিক মোজাক্কিরের মৃত্যু কার গুলিতে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:০০, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১৩:৪৪, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সাংবাদিক মোজাক্কিরের মৃত্যু কার গুলিতে?

 

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দুপক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মোজাক্কির। তবে সংঘর্ষের চার দিন পেরিয়ে গেলেও কার গুলিতে মুজাক্কিকের মৃত্যু হয়েছে- এখনও তা উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

গত শুক্রবার বিকেলে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই আবদুল কাদের মির্জা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের সংঘর্ষে গোলাগুলি হয়। এতে ৯ জন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০-১২ রাউন্ড রাবার বুলেট ছোঁড়ে। ত্রিপক্ষীয় ওই গোলাগুলির সময় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হন সাংবাদিক মোজাক্কির।

সূত্রে জানা গেছে, মির্জা কাদের ও বাদলের অনুসারীদের ধাওয়া, সংঘর্ষের ছবি তোলার সময় হামলাকারীরা মুজাক্কিরের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় তার মোবাইল ফোন ফেরত চাইলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মোজাক্কির।

তবে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দাবি তাদের গুলিতে মারা যাননি মুজাক্কির। কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদল মোজাক্কির হত্যায় একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে যাচ্ছেন।

এদিকে, সাংবাদিক মোজাক্কির মারা যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের দুপক্ষই রাজনীতি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করছে দুপক্ষই। নিজেদের সাফাই গেয়ে অভিযোগ করছেন একে অন্যের বিরুদ্ধে।

আওয়ামী লীগের বিবদমান দুই গ্রুপের দাবি  মুজাক্কির তাদের ‘লোক’ ছিলেন। কাদের মির্জা ও বাদল দু’জনই সাংবাদিক মোজাক্কিরকে নিজেদের অনুসারী বলে দাবি করেছেন।

মুজাক্কিরের মৃত্যুর পর কাদের মির্জা ফেসবুকে বলেন, মোজাক্কির একজন ভালো সাংবাদিক ছিলেন। তিনি দায়িত্ব পালনের সময় সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে বাদলের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে। বাদলকে দায়ী করে তার গ্রেপ্তার দাবি করেন কাদের মির্জা।

অপরদিকে বাদল গত শনিবার চাপরাশিরহাটে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোজাক্কির তার এলাকার ছেলে। ২০১৯ সালে তিনি যখন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন, তখন মোজাক্কিরসহ তার অনেক সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কাদের মির্জা। সে মামলার সব খরচ বাদল বহন করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, কাদের মির্জার নেতৃত্বে তার লোকজন মোজাক্কিরকে গুলি করে হত্যা করেছে। কাদের মির্জাকে সাংবাদিক হত্যাকারী আখ্যা দিয়ে তার গ্রেপ্তার দাবি করেন বাদল।

সাংবাদিক মোজক্কিরের মৃত্যু তবে কার গুলিতে?

পুলিশ বলছে, দু’গ্রুপের সংঘর্ষ থামাতে ও সংঘর্ষকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। কিন্তু পুলিশের গুলিতে কেউ হতাহত হয়নি।

 

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, চাপরাশিরহাটে সংঘর্ষের ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ পুলিশ বাজার পরিচালনা পর্ষদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে। সংঘর্ষের সময় কারা অস্ত্র নিয়ে গুলি করেছিল সেটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

মোজাক্কিরের পরিবার যা বলছে-

সাংবাদিক মোজাক্কিরের পরিবার এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে মোজাক্কিরের বড়ভাই নুর উদ্দিন জানান, আজ মঙ্গলবার তারা মামলা করবেন।

তিনি জানান, বসুরহাটে সোমবার ১৪৪ ধারা জারি থাকায় তারা মামলা করতে থানায় যেতে পারেননি। তবে এই মৃত্যুর জন্য তারা কাউকে দোষারোপ করছেন না বলেও জানান তিনি।

নূর উদ্দিন বলেন, গোলাগুলির ঘটনাটি শুক্রবার আসরের নামাজের পর ও মাগরিবের নামাজের আগে ঘটে। সে সময় কারা গোলাগুলি করেছিল এবং কাদের ছোঁড়া গুলিতে মোজাক্কির গুলিবিদ্ধ হয়েছিল সেটা বাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে আছে। ওই ফুটেজটি পুলিশের হেফাজতে আছে বলে তিনি জানান।

মোজাক্কিরের খুনিদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।

মিজানুর রহমান বাদল দাবি করেছেন মোজাক্কির তার সমর্থক ছিলেন এবং মোজাক্কিরের নামে থানায় মামলা ছিল--এ ব্যাপারে নূর উদ্দিন বলেন, তিনি এ বিষয়ে জানেন না এবং পরিবারের কারও কাছেও এ তথ্য নেই।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মোজাক্কিরকে নিয়ে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষই রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। পুলিশ এ ব্যাপারে সতর্ক আছে। যতদ্রুত সম্ভব মামলা তদন্ত করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

 

 

সম্পর্কিত বিষয়: