State Times Bangladesh

কঠোর লকডাউনের আগের দুদিন নিয়ে কী বলছে সরকার?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১০, ১০ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১০:০৫, ১১ এপ্রিল ২০২১

কঠোর লকডাউনের আগের দুদিন নিয়ে কী বলছে সরকার?

প্রতীকী ছবি

আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে ৭ দিনের ‘কঠোর’ লকডাউন দেওয়া হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে আসতে দেওয়া হবে না। যেকোনো মূল্যে ঘরে থাকতে বাধ্য করতে হার্ডলাইনে যাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

বর্তমানে সাত দিনের শিথিল ‘লকডাউন’ চলছে, যা কাল রোববার শেষ হবে। এ রকম অবস্থায় অনেকেরই প্রশ্ন, মাঝের দুদিন অর্থাৎ ১২ ও ১৩ এপ্রিল তাহলে কী হবে?

এই দুদিন কি সারা দেশে গণপরিবহন চলবে? কোনো ক্ষেত্রেই কি বিধিনিষেধ থাকবে না? তবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সরকার।

সরকার ও জনস্বাস্থ্যবিদেরা মনে করছেন, যদি এই দুদিন স্বাভাবিক থাকে, তাহলে ‘কঠোর’ লকডাউনের আগে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করে গ্রামের দিকে ছুটবে। তখন করোনার সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ জন্য তাঁরা চাচ্ছেন, দ্রুতই এই-দুই দিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া দরকার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ১৪ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করা হবে, যেটি হচ্ছে ‘কমপ্লিট’ লকডাউন। তবে ১২ ও ১৩ এপ্রিলের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। 

তিনি বলেন, যেহেতু আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, তাই যে অবস্থা এখন চলছে, এর চাইতে বেশি ওপেন করা মনে হয় এখন সঙ্গত হবে না। এ দুদিনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, সে বিষয়টি নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত আসতে কালকের দিন পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। 

আন্তঃজেলা বাস চলাচলের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তঃজেলা বাস চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা সম্ভবত নেই। 

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জীবন বাঁচাতে আমাদেরকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেতুমন্ত্রীও বলেছেন যে, পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়তো আমাদের শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। তাই মানুষের কাছে মেসেজ, সতর্ক থাকতে হবে, বাইরে আসা যাবে না। এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লকডাউন। 

এদিকে ঢিলেঢালা এমন ‘লকডাউনে’ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। বরং করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত আছে।

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ডসংখ্যক ৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৩৪৩ জন। আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও কয়েক সপ্তাহ অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। তখন করোনায় আক্রান্ত বহু লোককেই ন্যূনতম চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। এখনই হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রোগীদের।

অন্যদিকে সরকার এক সপ্তাহের লকডাউনের কথা বললেও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সুপারিশ, অন্তত দুই সপ্তাহের কঠোর লকডাউন ছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এ জন্য কমিটি সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় দুই সপ্তাহের পূর্ণ লকডাউন দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

এক সপ্তাহের লকডাউনে করোনার সংক্রমণের চিত্রে তেমন পরিবর্তন না ঘটলে লকডাউনের সময়সীমা বাড়তে পারে। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময় বাড়ানো হবে কি না, তা নিয়ে ২০ তারিখে পুনরায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 

এছাড়া করোনাসংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সরকারি কার্যক্রম সুসমন্বয়ের জন্য ৬৪ জেলায় ৬৪ জন সিনিয়র সচিব ও সচিবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে থাকবেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সরকারের তরফ থেকে তাদেরকে দেওয়া হবে কঠোর নির্দেশনা। নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন তারা।

সম্পর্কিত বিষয়: