State Times Bangladesh

বাণিজ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:০৩, ৬ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১০:৩৪, ৭ এপ্রিল ২০২১

বাণিজ্য বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নীতিগত সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় এই সহায়তা চান প্রধানমন্ত্রী।

এসময় দুদেশের চলমান বাণিজ্য সম্পর্ক তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে শিল্প কাঁচামাল ও ভোক্তাসামগ্রী- যেমন তুলা, সয়াবিন ও গম রপ্তানি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো শুল্ক দিতে হয় না। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের জন্য উভয় দেশ থেকে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা দেওয়া জরুরি।’

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের যাত্রায় আমেরিকা একটি শক্তিশালী অংশীদার হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের রপ্তানির বৃহত্তম গন্তব্য, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের বৃহত্তম উৎস, দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন অংশীদার এবং প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।’

পণ্য উৎপাদনের জন্য আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো ব্যবহারের প্রস্তাব দেন শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশের জন্য বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন বৈদেশিক সাহায্য নির্ভরতা কমিয়েছে। তখন লাখ লাখ যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের  প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।’

তথ্য প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ ৬০টিরও বেশি দেশে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আইসিটি পণ্য রপ্তানি করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ রপ্তানি গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে।’

‘বাংলাদেশের জন্য ইউএসএআইডি'র কমপ্রিনহেনসিভ প্রাইভেট সেক্টর মূল্যায়ন ২০১৯ অনুসারে, বাংলাদেশে আইসিটি শিল্প ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং প্রায় পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছবে।’

বাংলাদেশের হাইটেক পার্কগুলোতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ২৮টি হাই-টেক পার্ক তৈরি করছে।’ হাইটেক পার্কে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আইসিটি খাতে বিনিয়োগ করার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দারিদ্র্য,শোষণ ও অর্থনৈতিক বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের অসমাপ্ত কাজ করে যাচ্ছি।’

‘গত এক দশকে আমরা আর্থ-সামাজিক সূচকগুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছি। বাংলাদেশের অর্থনীতির শক্তি এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি দুর্দান্ত স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে।’

ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ লাভ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-আয়ের উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’