State Times Bangladesh

রাজশাহী মেডিকেলে কাঁধে নিয়ে নামতে হয় করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:১৭, ১০ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৮:২৪, ১০ এপ্রিল ২০২১

রাজশাহী মেডিকেলে কাঁধে নিয়ে নামতে হয় করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ

পুরোনো ছবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আইসিইউ ও অক্সিজেন সংকট ছাড়াও নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা। ফলে করোনার সংক্রমণ ও ভোগান্তি বাড়ছে।  তিনতলায় করোনা ওয়ার্ড করায় এবং সেখানে লিফট না থাকায় রোগী মারা যাওয়ার পর লাশ কাঁধে নিয়ে নিচে নামতে হয় স্বজনদের।  

রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে রামেক হাসপাতালে ৮৬ জন করোনা রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য মাত্র ১০টি আইসিইউ বেড ও ১৮টি ভেন্টিলেটর সুবিধা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইসিইউ এর চেয়ে আইসিইউ বেড লাগবে এমন রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

এখন প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০ জন রোগীকে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অক্সিজেনের সংকট রয়েছে। অপর্যাপ্ত আইসিইউসহ অক্সিজেনের অভাবে রোগীকে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আইসিইউ এর অপেক্ষার প্রহর গুণতে গুণতে রোগী মারাও যাচ্ছেন।

ক্রমবর্ধমান করোনা রোগীর চাপে হাসপাতালের উত্তরের একটি বিল্ডিংয়ের তিন তলায় অবস্থিত ২৫ নম্বর চক্ষু ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

যে ওয়ার্ডটি এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। কিন্তু রোগী বাড়তে থাকাই অর্ধপ্রস্তুতকৃত এই ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও অক্সিজেন সংকটসহ পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকলেও থেমে নেই চিকিৎসা।

তবে সংকটের সঙ্গে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটিগুলোকেও করোনা রোগীদের কার্যকর সেবা নিশ্চিতের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দায়ী করছেন রোগী ও তার স্বজনসহ সংশ্লিষ্টরা।

করোনা রোগী বাড়তে থাকায় তিন তলায় অবস্থিত চক্ষু ওয়ার্ডটিকে করোনা ওয়ার্ড হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু এই ওয়ার্ডে থাকা  রোগীদের জন্য খুবই কষ্টকর। কেননা এখানে কোনও লিফটের ব্যবস্থা নেই। একজন করোনা রোগীকে হেঁটে এই তিন তলায় উঠতে হচ্ছে। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থারও অবনতি হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন জানান, তার রোগীকে করোনার লক্ষণসহ ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রোগীকে তিনতলা হেঁটে ওপরে উঠতে হয়েছে। তারপর ডাক্তার দেখার পর আইসিইউ লাগবে বলে জানান। কিন্তু আইসিইউ ফাঁকা ছিল না। শেষ পর্যন্ত আইসিইউ না পেয়ে তার রোগী মারা যান।

তিনি আরও জানান, রোগী মারা যাওয়ার পর তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। তিনতলায় কোনও লিফট নেই। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার রোগী হেঁটে তিন তলাই উঠলো। রাতপোহানোর আগেই লাশকে কাঁধে নিয়ে নিচে নামাতে হয়েছে। আর এখানে রোগীর দেখাশোনার জন্য তেমন কোনও লোক না থাকায় স্বজন হিসেবে তাদেরই সবসময় রোগীর কাছে থাকতে হয়েছে।  

আরেক রোগীর স্বজন রজিনা বেগম জানান, আমার রোগীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নিয়ে এসেছি। শ্বাসকষ্ট হওয়ায় ডাক্তার এখানে পাঠিয়েছে। এখনও কোনও বেড পাইনি, অক্সিজেন পাইনি। এই ওয়ার্ডের বারান্দায় রোগীকে রেখেছি। সে আমার স্বামী। আমরা দু’জনেই এসেছি। বাসায় ছোট ছেলে আছে। তাকেও নিয়ে আসিনি।

এ বিষয়ে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, রামেক হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে প্রায় ৮৬ জন রোগী ভর্তি আছে। এ পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা থাকায় তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এরই মধ্যে ২৫ নম্বর ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ড করা হয়েছে।

নতুন করে ২২ নম্বর ওয়ার্ডকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। যেটা শনিবারই চালু হয়ে যাবে। এগুলো শেষ হলে ১৬ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডও প্রস্তুত করা হবে। তবে এটা সত্য ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে করোনা রোগীদের ওঠা-নামাই সমস্যা হচ্ছে। তবে এ সমস্যা সামনে থাকবে না। রোগীদের মধ্যে যারা একটু সুস্থ তাদেরই ২৫ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, তাদের নানা সীমাবন্ধতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। তাদের ইচ্ছা থাকলেও সবকিছু করতে পারছেন না। হাসাপাতালে আইসিইউ সংকট আছে। এটা স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে। সামনে কিছুদিনের মধ্যে হয়তো ৮টি আইসিইউ পাওয়াও যাবে। আর অক্সিজেনের যেন সংকট না হয় সেজন্য কাজ চলমান রয়েছে।

করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে সাধারণ রোগীদের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আর বহির্বিভাগসহ জরুরি বিভাগে স্বাস্থ্যবিধির বিষয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান পরিচালক।