State Times Bangladesh

ফরিদপুরে সংঘর্ষ-ঘেরাও-অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গুলিতে একজন নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ৬ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১৮:১৪, ৬ এপ্রিল ২০২১

ফরিদপুরে সংঘর্ষ-ঘেরাও-অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গুলিতে একজন নিহত

সালথা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়

ফরিদপুরের সালথায় লকডাউনের সময় দোকান খোলা নিয়ে এসিল্যান্ডের সাথে ব্যবসায়ীদের বিরোধের জের ধরে পুলিশের সাথে স্থানীয়দের ব্যাপক সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। এসময় পুলিশসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম জুবায়ের (২২)। তিনি রামকান্তপুর ইউনিয়নের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে।

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান একজন নিহত হওয়ার খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করতে পারেনি। লাশটি পরিবারের কাছে আছে বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, করোনাকালের বিধিনিষেধ কার্যকর করতে দুই আনসার সদস্য ও ব্যক্তিগত সহকারীকে নিয়ে এসি ল্যান্ড মারুফা সুলতানা ফুকরা বাজারে যান। সে সময় চা পান করতে আসা জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে লাঠিপেটা করা হয়েছিল বলে স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে পরে ফুকরা বাজারে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশের গুলিতে দুজন নিহত হয়েছেন। এমন গুজবে শত শত মানুষ গিয়ে থানা ও উপজেলা কমপ্লেক্স ঘেরাও করেন।

এতে পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধরা পুলিশের উপর ইটপাটকেল ছুঁড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল ছুঁড়ে। এসময় বিক্ষুব্ধরা সালথা উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করে বেশ কিছু রুম ভাংচুর করে।

ওসি আলীমুজ্জামান বলেন, হামলাকারীরা উপজেলা পরিষদে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা ইউএনও, এসিল্যান্ড, উপজেলা চেয়ারম্যান, কৃষি দফতর, এলজিইডি, প্রাণিসম্পদ, খাদ্য বিভাগের কক্ষ ভাঙচুর করে। ভাঙচুরের পাশাপাশি এসব অফিস থেকে মূল্যাবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারীরা তিনটি কক্ষ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ, র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। এসময় তারা উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে দিতে শটগানের ৬০০ রাউন্ড বুলেট, ৩২ রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস, ৭০ রাউন্ড রাইফেলের গুলি ও ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের সময় র‌্যাব-পুলিশের ৭ সদস্যসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) সুমিনুর জানান, স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে ফরিদপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে পুলিশের অতিরিক্ত দল ঘটনাস্থলে আসে। তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এসে র‌্যাবও আক্রান্ত হয়েছে।

ঘটনার সময় থানায় নারী ও শিশুসহ সাধারণ মানুষ আটকা পরার বিষয়ে তিনি বলেন, আটকা পরা মানুষেরা আতঙ্কজনক পরিস্থিতির মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। একটা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি আমরা।

তিনি বলেন, উপজেলা অফিস, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানায় হামলা চালানো হয়েছে। এসব স্থানে অগ্নিসংযোগ ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।

আহতদের সংখ্যা বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত আহতদের সঠিক তথ্য পাইনি। আমরা সহনশীলতার চূড়ান্ত রূপ প্রদর্শন করেছি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসিল্যান্ড মারুফা সুলতানা হীরামনি বলেন, লকডাউন কার্যকর হচ্ছে কিনা সেটি দেখার জন্য ফুকরা বাজারে যাই। এরপর তারা আমার গাড়ি ধাওয়া করলে আমি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানাই। এরপর স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে তাণ্ডব চালায়। তবে তার কোনও সহকর্মী কাউকে আঘাত করেনি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় একজন হুজুরকে মেরে ফেলা হয়েছে এই গুজব ছড়িয়ে গ্রামবাসীকে একত্রিত করে এই হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, এটি পুলিশের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষ। এখানে সরকারি কোনও কর্মকর্তা জড়িত নন।

সংঘর্ষ থামার পর ফরিদপুর ও সালথার ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও গোটা উপজেলা চত্বর জুড়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।