State Times Bangladesh

ঝড়ে টিউবওয়েল উড়ে যায়, এ তো সড়কবাতির খুঁটি: ঠিকাদার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১:২১, ৬ এপ্রিল ২০২১

ঝড়ে টিউবওয়েল উড়ে যায়, এ তো সড়কবাতির খুঁটি: ঠিকাদার

রাজশাহীতে উদ্বোধনের দেড় মাসের মাথায় ঝড়ে সড়কবাতির খুঁটি হেলে পড়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোেগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় বইছে। যদিও ঠিকাদার বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, ঝড়ে টিউবওয়েল পর্যন্ত উড়ে যায়। আর এ তো সড়কবাতির খুঁটি! 

রাজশাহীর আলোচিত এই ঠিকাদারের নাম আশরাফুল হুদা টিটো। তিনি ‘হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হ্যারোর অপর একটি কাজের ব্যাপারে অনুসন্ধান করছে।

সেই প্রকল্পও ছিল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক)। রাজশাহী মহানগরীর ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা আলোকিত করতে ১৬টি ফ্লাড লাইট বসানো হয়েছিল। ৯ কোটি ৭ লাখ ৭৭ হাজার ৭৭৭ টাকায় কাজটি বাস্তবায়ন করে হ্যারো ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। কাজটি শেষ করার পরই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। দুদক অভিযান চালিয়ে প্রকল্পের নথিপত্র জব্দও করে। তখন এই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ে রাসিক।

তারপরও এ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটিই রাজশাহী মহানগরীর বিলশিমলা থেকে কাশিয়াডাঙ্গা পর্যন্ত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার সড়কে সড়কবাতি বসানোর কাজ পায়। এরপর মৌসুমের প্রথম ঝড়ে গত রোববার ১৭৪টি খুঁটির মধ্যে অন্তত ৮৬টি হেলে পড়ে এবং ভূপাতিত হয়। ফলে ঠিকাদারী এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েছে নগর সংস্থা। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে চার লেন সড়কটির আইল্যান্ডে চীন থেকে আনা সড়কবাতির ১৭৪টি খুঁটি স্থাপন করা হয়। প্রতিটি খুঁটির সঙ্গে প্রজাপতির মতো ডানায় দুটি করে এলইডি বাতি বসানো হয়। রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক) রেয়াজাত হোসেন রিটু গত রোববার জানিয়েছিলেন, সড়কবাতির খুঁটিগুলো একটি কংক্রিটের স্মম্ভের ওপর বসানো হয়েছিল। স্তম্ভটি পাঁট ফুট উচ্চতার। এর মধ্যে সাড়ে তিন ফুট মাটির নিচে আছে। আর দেড় ফুট আছে মাটির উপরে।

তবে সোমবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কংক্রিটের স্তম্ভগুলো কোনক্রমেই পাঁচ ফুট হবে না। এগুলোর উচ্চতা সর্বোচ্চ তিন ফুট। এর অর্ধেক অংশ মাটির নিচে, বাকিটা উপরে। মাটির নিচে কম থাকার কারণেই মাত্র ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিবেগের ধুলিঝড়ে খুঁটিগুলো উপড়ে পড়ে। রোববার মোট ৮৬টি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত দেখা গেছে। সেদিন সন্ধ্যা থেকে ক্রেন দিয়ে চেপে হেলেপড়া খুঁটিগুলোকে সোজা করার কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সোমবার দুপুর পর্যন্ত ১৯টি খুঁটি সোজা করা হয়। তবে সবগুলো খুঁটি তুলে কংক্রিটের স্তম্ভটি পুরোটাই মাটির নিচে পুঁতে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। 

তবে খুঁটিগুলো মাটির গভীরে না পোতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী আশরাফুল হুদা টিটো। তিনি বলেন, খুঁটিগুলোর নিচের অংশে বাঁশের মতো নান্দনিক কারুকাজ করা আছে। তাই আরও পুঁতে দিলে সেটি আইল্যান্ডে ঢেকে যেত। সুন্দর জিনিসটা দেখানোর জন্য অল্প করে খুঁটি পোতা হয়েছিল।

আশরাফুল হুদা টিটো জানান, সোমবার সকালে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন খুঁটিগুলো পরিদর্শন করেছেন। এখন সবগুলো খুঁটিই তোলার পর কংক্রিটের পুরো অংশটিই যেন নতুন করে মাটির নিচে পোতা হয় তিনি সেই নির্দেশ দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা কাজ শেষ করবেন।

ফ্লাডলাইট স্থাপন এবং প্রজাপতি সড়কবাতির এই কাজে দুর্নীতি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ঠিকাদার বলেন, এগুলো সমালোচকেরা বলবেন। কারও মুখে তো হাত দেয়া যায় না। আমি কাজ পাই ইজিপির ওপেন টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে। এমন তো নয় যে আমার যোগ্যতা নেই। ঝড়ে টিউবওয়েল পর্যন্ত উড়ে যায়, আর এটা তো সড়কবাতির খুঁটি! 

সম্পর্কিত বিষয়: