State Times Bangladesh

দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজের বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২৮, ৪ এপ্রিল ২০২১

আপডেট: ১২:৩০, ৪ এপ্রিল ২০২১

দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজের বাম্পার ফলন

করোনাভাইরাস মহামারিতে লোকসানে পড়া কৃষকের স্বপ্ন পূরণ করেছে মৌসুমি ফল তরমুজ। চলতি মৌসুমে দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে তরমুজের বাম্পার ফলন গত কয়েক বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজ খেতে ক্ষতিও হয়নি।

এবার কৃষকরা তরমুজের দামও পাচ্ছেন চাহিদা অনুযায়ী। এতে করে করোনা মহামারির মধ্যেও হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল খামার বাড়ি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি খাতে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। বেশিরভাগ চাষি অর্থ সংকটের পাশাপাশি নানা সংকটের কারণে তরমুজ চাষে বাধাগ্রস্ত হন। এতে ব্যাপক লোকসানে পড়তে হয় দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের।

চলতি মৌসুমে তরমুজের বাম্পার ফলন কৃষকের ক্ষতি পূরণে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবং কৃষকরা। তারা বলছেন, এ বছর দেশে যে তরমুজ উৎপাদন হয়েছে তার ৬০ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায়।

এদিকে, পটুয়াখালী জেলার বাইরেও বাকি পাঁচটি জেলায় কম-বেশি তরমুজের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় ৪৬৩ হেক্টর, পিরোজপুর জেলায় ১৪৮ হেক্টর, ঝালকাঠি জেলায় ৩৫ হেক্টর, বরগুনা জেলায় ৪ হাজার ৪৩ হেক্টর এবং ভোলা জেলায় ৫ হাজার ৫৫৬ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে।

যদিও এখন পর্যন্ত তরমুজ উৎপাদনের হার নিশ্চিত হতে পারেনি কৃষি বিভাগ। তারা বলছে, বিভাগের মোট ২৪ হাজার ৪৮১ হেক্টর জমির মধ্যে ১৩ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমির তরমুজ এরই মধ্যে কর্তন হয়েছে। সেগুলো এখন বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এবার ফলন ভালো হলেও তরমুজের দাম তুলনামূলক বেশি। গত বছরগুলোতে বরিশালে পিস হিসেবে তরমুজ বিক্রি হলেও এবার খুচরা বাজারে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি তরমুজের মূল্য ৩০ থেকে ৩৫ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। এতে করে ছোট সাইজের তরমুজের মূল্যও সর্বনিম্ন ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

পটুয়াখালীর চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা তরমুজ চাষি আমির হোসেন বলেন, গত বছর করোনা মহামারির কারণে তরমুজ চাষ করতে পারিনি। ওই সময় বছরের বেশিরভগ সময়টাই কেটেছে লকডাউনের মধ্যে। আবার কৃষি পণ্যও পাওয়া যায়নি। এ কারণে গত বছর তরমুজের আবাদ কম হয়েছে।

তিনি বলেন, এ মৌসুমে গত মৌসুমের থেকে কম পরিমান জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। কিন্তু আশা করছি ফল বিগত দুই তিন বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। এর কারণ আবহাওয়া অনুকূলে থাকা। ফলোনের পরে এখন পর্যন্ত বান্য বা বৃষ্টি হয়নি। তাই খেতের তরমুজের এখনো কোন ক্ষতি হয়নি। এমন আবহাওয়া চলতি মাস পর্যন্ত থাকলে কৃষিকের জন্য আর্শিবাদ হবে বলে জানান ওই কৃষক।

কৃষি সম্প্রপ্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগের অতিরক্ত পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, এ বছর তরমুজ চাষে বরিশাল অঞ্চল প্রথম অবস্থানে রয়েছে। কেননা এ বছর সারা দেশে যে পরিমান তরমুজের ফলন হয়েছে তার ৬০ শতাংশই এই অঞ্চলে হয়েছে। ফলে চাষিরা দামও ভালো পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মানুষ কম টাকায় ভালো জাতের এবং মানের তরমুজ খেতে পারবে।

সম্পর্কিত বিষয়: