State Times Bangladesh

গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য পরিবর্তন হানিফের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০:৩২, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ১০:৩৩, ১৩ জানুয়ারি ২০২১

গ্যারেজে মাছ চাষে ভাগ্য পরিবর্তন হানিফের

এভাবে গ্যারেজের অব্যবহৃত অংশে চলছে মাছ চাষ

গাড়ি রাখার গ্যারেজের কিছু অংশে অব্যবহৃত জায়গা ফেলে না রেখে মাছ চাষ করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন চাঁদপুরের মোহাম্মদ হানিফ গাজী। চাঁদপুর শহরের স্বর্ণখোলা এলাকায় এই গ্যারেজের অবস্থান।

গ্যারেজের একটি অংশ ব্যবহৃত না হওয়ায় দুই বছর আগে সেখানে বায়ো ফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেন হানিফ। সে সময় সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে বছরে ১ লাখ টাকা আয় করছেন এখান থেকে।

হানিফ বলেন, ‘দুই বছর আগে আমি স্বর্ণখোলা এলাকায় ৩৬ শতাংশ জায়গা ভাড়া নিই। সেখানে একটি গাড়ি রাখার গ্যারেজ দিই। তবে এ থেকে যে টাকা আয় হতো তা খুব একটা বেশি ছিল না। একসময় আমি লক্ষ্য করলাম আমার গ্যারেজের পুরোটা ব্যবহার হচ্ছে না। তখন সিদ্ধান্ত নিলাম গ্যারেজের অব্যবহৃত অংশে মাছ চাষ করব।’

মাছ চাষী মোহাম্মদ হানিফ গাজী

তিনি বলেন, ‘গ্যারেজের অব্যবহৃত ওই অংশের জমির পরিমাণ প্রায় ১২ শতাংশ। সেখানে বায়ো ফ্লক পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করি। ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব দেখে তিনি এই পদ্ধতিতে মাছ চাষের সঙ্গে পরিচিত হই। এখন আমি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছি। বিজ্ঞানসম্মত হওয়ায় অল্প জায়গাতেই বেশি মাছ চাষ করতে পারছি। এতে করে অল্প বিনিয়োগে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব হচ্ছে।’

‘প্রথম এককালীন ৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে মাছ চাষ শুরু করি। বর্তমানে আমি বছরে প্রায় ১ লাখ টাকা করে আয় করছি। কই, শিং, পাঙ্গাশ, তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছি’, যোগ করেন হানিফ গাজী।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, ‘এটা খুবই খুশির সংবাদ আমাদের জন্য। একটি গ্যারেজের অব্যবহৃত অংশতে মাছ চাষের মাধ্যমে নিজে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মাছের চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছেন তিনি। প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে এভাবে এগিয়ে এলে দেশের চিত্র পাল্টে যেতে বাধ্য।’

কেউ পরিত্যক্ত জমিতে এই ধরনের মৎস্য খামার গড়ে তুলতে চাইলে জেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান মৎস্য কর্মকর্তা।