State Times Bangladesh

প্রজাপতির প্রিয় শিকোরি গাছের পাতা, ফলে হয় মাছ অচেতন

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:১৬, ৮ জানুয়ারি ২০২১

আপডেট: ২০:৩৯, ৮ জানুয়ারি ২০২১

প্রজাপতির প্রিয় শিকোরি গাছের পাতা, ফলে হয় মাছ অচেতন

শিকোরি ফল

ছবিতে সাদা বর্ণের যে ফলটি দেখা যাচ্ছে, সেটির নাম শিকোরি (Flueggea virosa)। ইংরেজি নাম Chinese Waterberry, Snowberry, Common Bushweed। এটি এদ ধরনের গুল্মজাতের পত্রমোচি গাছ। স্ত্রী ও পুরুষ গাছ হয় আলাদা। ফলটি পাখিদের খুব প্রিয়। এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ফলটি খেয়ে থাকে। মজার ব্যাপার হলো শিকোরি গাছের বাকল দিয়ে মাছ অচেতন করা যায়।

সম্প্রতি গাজীপুরের শালবন এলাকায় এ ফল ও ফলের গাছ দেখা গেছে। ফলটিকে স্থানীয়ভাবে খাকরা এবং কাউকরা নামেও ডাকা হয়। শিকোরি গাছের শিকড়, বাকল ও পাতা সিফিলিস, গনোরিয়া, চর্মরোগ ও কৃমি সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। পাতা এবং বাকলের নির্যাস শক্তিবর্ধনে উপকারী। কাঠ খুঁটি, লাঠি এবং কয়লা তৈরিতে ব্যবহার্য। এছাড়াও ভারতের বিভিন্ন সম্প্রদায় গাছের মূল ও পাতা নানা রোগে কাজে লাগে।

এ গুল্ম  কখনও কখনও ৪ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। শাখা কোণাকৃতি, নতুন অবস্থায় লালাভ বাদামি, মসৃণ এবং ক্রমশ গাঢ়, বায়ুরল্প্রব্দযুক্ত। পত্র সোপপত্রিক, উপপত্র ভল্লাকার, ১ থেকে আড়াই মিলিমিটার লম্বা, আগা চোখা, অর্ধঅখণ্ড, ঝিল্লিময়, আশুপাতি। বৃন্ত ২ থেকে ৮ মিলিমিটার লম্বা, সরু পক্ষল, পত্রফলক উপবৃত্তাকার, দীর্ঘায়ত, বিডিম্বাকার বা গোলাকার, মূলীয় অংশ কীলকাকার, শুস্ক অবস্থায় অখণ্ড এবং সামান্য বেলনাকারে পাকানো, সাদাটে সবুজ, পার্শ্বীয় শিরা ৪ থেকে ৮ জোড়া। পুষ্প কাক্ষিক, শীর্ষ মঞ্জরির গুচ্ছে সন্নিবিষ্ট, হলুদাভ, সুগন্ধি।

পুরুষ ফুলের বৃন্ত সরু, ৩ থেকে ৬ মিলিমিটার লম্বা, বৃত্যংশ খণ্ড ৫টি, ডিম্বাকার, বহির্মুখী ও ফ্যাকাশে হলুদ। স্ত্রী ফুলের বৃন্ত দেড় থেকে ১২ মিলিমিটার লম্বা, বৃত্যংশ খণ্ড পুংপুষ্পের বৃত্যংশের অনুরূপ। পরাগায়ণের কাজটি করে বিভিন্ন পোকা এবং মৌমাছি। ফল স্বাদে মিষ্টি, অর্ধগোলাকার, ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার, মসৃণ, সবুজ বা সাদা। বীজ ২ মিলিমিটার, বাদামি এবং প্রায়শ উজ্জ্বল। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর এর ফুল ও ফলের মৌসুম।

শিকোরি গাছের পাতা প্রজাপতির প্রিয়। আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের পাহাড়, জলাধার এবং নদীপাড়ের মিশ্র চিরসবুজ বনের জন্মায় এ গাছ। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম এবং বাগেরহাটে পাওয়া যায়।